কনডেম সেলে ৪৮ জনের সঙ্গে যুক্ত হলেন মিন্নি

বর্তমানে দেশে ৪৯ জন নারী ফাঁ’সির দ’ণ্ড মাথায় নিয়ে বিভিন্ন কারা’গারের কনডেম সেলের বাসিন্দা। ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্তদের থাকার এই সেলের সর্বশেষ বাসিন্দা হয়েছেন বরগুনার আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। গতকাল বুধবার রিফাত শরীফ হ’ত্যা মাম’লার রায় ঘোষণার পর মিন্নিকে বরগুনা কারা’গারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই কারা’গারে আর কোনো নারী ফাঁ’সির আ’সামি না থাকায় তিনি একাই হয়েছেন কনডেম সেলের বাসিন্দা।

জানতে চাইলে বরগুনা কারা’গারের সুপার মো. আনোয়ার হোসেন গত রাতে বলেন, ‘ফাঁ’সির আ’সামি হিসেবে তাকে (মিন্নি) কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।’ তিনি জানান, এই কারা’গারের নারী ইউনিটে ১৯ জন বন্দি ছিল। মিন্নিকে নিয়ে ২০ জন হলো। দেশে সবচেয়ে বেশি নারী ফা ‘সির আ’সামি রয়েছে কাশিমপুর মহিলা কারাগা’রে। এই কা’রাগারের জে’লার হাসনাত জাহান গতকাল জানান, কারা’গারটিতে ২৩ জন ফাঁ’সির আ’সামি রয়েছে।

কিছুদিন আগে ২৪ জন ছিল, এর মধ্যে একজনের দ’ণ্ড কমে যাব’জ্জীবন হয়ে যাওয়ায় এখন ২৩ জন রয়েছে। কারা সূত্র জানায়, কারা’গারগুলোতে ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্ত নারীদের মধ্যে কেউ কেউ ১০-১৫ বছর ধরে কনডেম সেলের বাসিন্দা। দেশে বহু পুরুষ আ’সামির ফাঁ’সি কার্যকর হলেও কোনো নারী আসা’মির ফাঁ’সি কার্যকর হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। এক কারারক্ষী জানান, তিনি ২৮ বছর ধরে চাকরি করছেন, আজ পর্যন্ত কোনো নারী আসা’মির ফাঁ’সি হয়েছে, এমন কথা শোনেননি।

ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রাপ্ত নারী আসা’মিদের মধ্যে সবাই হ’ত্যার দায়ে দ’ণ্ডিত হয়েছে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে। কলহের জের ধরে নিজ পরিবারের কোনো সদস্যকে হ’ত্যার দায়েই ফাঁ’সির দণ্ড পেয়েছে এদের বেশির ভাগ। কারা সূত্র জানায়, প্রতিটি কনডেম সেল কমবেশি ১০ হাত দৈর্ঘ্য ও ছয় হাত প্রস্থের হয়। প্রতি সেলে তিন-চারজন করে ফাঁ’সির আসা’মিকে রাখা হয়। প্রতি সেলে গ্রিলঘেরা বারান্দা রয়েছে। ওই বারান্দাতেই তাদের হাঁটার সুযোগ মেলে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই তাদের থাকতে হয় সেলের ভেতর ও বারান্দায়।

এক কারা কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন দুপুরে গোসল করার জন্য তাদের বের হতে দেওয়া হয়। গোসলের আগে সেলের আশপাশে ১৫-২০ মিনিট হাঁটার সুযোগ দেওয়া হয়। এভাবেই মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে তাদের। ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রাপ্তরা মাসে এক দিন সুযোগ পায় তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করার। তখন তারা সেল থেকে বেরিয়ে কারাগা’রের গেটে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে।

সূত্র জানায়, ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্তদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে একটি করে থালা, বাটি ও কম্বল। এর বাইরে আর কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেই। ফাঁ’সি কার্যকর হয়নি কারো : এক হিসাবে দেখা গেছে, স্বাধীনতার পর থেকে শতাধিক নারীর ফাঁ’সির আদেশ হয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কোনো নারীর ফাঁ’সি কার্যকর হয়নি। তাদের মধ্যে অনেকেই দীর্ঘদিন কারা ভোগ করার পর বেরিয়ে গেছে, কেউ কেউ মা’রা গেছে, কারো কারো আপিলে শা’স্তি কমেছে।

মা-বাবাকে হ’ত্যা করে কনডেম সেলের বাসিন্দা হয়েছিলেন পুলিশের কন্যা ঐশী। পরে তাঁর যাব’জ্জীবন কারাদ’ণ্ড হওয়ায় কনডেম সেল থেকে মুক্তি পান। ২০০৭ সালে কাশিমপুরে একমাত্র মহিলা কারা’গার উদ্বোধন করা হয়। দেশের প্রতিটি কারাগা’রে ফাঁ’সির ম’ঞ্চ থাকলেও সেখানে কোনো ফাঁ’সির ম’ঞ্চ নেই। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তত্কালীন আইজি প্রিজন্স ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হাসানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানিয়েছিলেন, অতীতে কোনো নারী আসা’মির ফাঁ’সি কার্যকরের রেকর্ড না থাকায় ফাঁ’সির ম’ঞ্চ বানানো হয়নি।

কারা’গারে ২২ বছর ধরে চাকরি করেন এমন এক কর্মকর্তা জানান, নিয়মানুযায়ী ফাঁ’সির আসা’মিরা সর্বশেষ সুযোগ হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। রাষ্ট্রপতি তাদের ক্ষমা না করলে ফাঁ’সি থেকে বাঁচার কোনো সুযোগ নেই। তবে আজ পর্যন্ত কোনো নারীর আবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে গেছে, এমন খবরও তিনি শোনেননি।

সূত্র: কালের কণ্ঠ।