কনডেম সেলে একটি করে থালা, বাটি ও কম্বল পাবেন মিন্নি

বর্তমানে দেশে ৪৯ জন নারী ফাঁ’সির দ’ণ্ড মা’থায় নিয়ে বিভিন্ন কারা’গারের কনডেম সেলের বাসিন্দা। ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্তদের থাকার এই সেলের সর্বশেষ বাসিন্দা হয়েছেন বরগুনার আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি। গতকাল বুধবার রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলার রায় ঘোষণার পর মিন্নিকে বরগুনা কারা’গারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই কারা’গারে আর কোনো নারী ফাঁ’সির আ’সামি না থাকায় তিনি একাই হয়েছেন কনডেম সেলের বাসিন্দা।

জানতে চাইলে বরগুনা কারা’গারের সুপার মো. আনোয়ার হোসেন গত রাতে বলেন, ‘ফাঁ’সির আ’সামি হিসেবে তাকে (মিন্নি) কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।’ তিনি জানান, এই কারাগা’রের নারী ইউনিটে ১৯ জন ব’ন্দি ছিল। মিন্নিকে নিয়ে ২০ জন হলো। দেশে সবচেয়ে বেশি নারী ফাঁ’সির আসা’মি রয়েছে কাশিমপুর মহিলা কা’রাগারে। এই কারা’গারের জে’লার হাসনাত জাহান গতকাল বলেন, কারা’গারটিতে ২৩ জন ফাঁ’সির আ’সামি রয়েছে। কিছুদিন আগে ২৪ জন ছিল, এর মধ্যে একজনের দ’ণ্ড কমে যাব’জ্জীবন হয়ে যাওয়ায় এখন ২৩ জন রয়েছে।

কারা সূত্র জানায়, কা’রাগারগুলোতে ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্ত নারীদের মধ্যে কেউ কেউ ১০-১৫ বছর ধ’রে কনডেম সেলের বাসিন্দা। দেশে বহু পুরুষ আ’সামির ফাঁ’সি কার্যকর হলেও কোনো নারী আসা’মির ফাঁ’সি কার্যকর হয়েছে, এমন ত’থ্য পাওয়া যায়নি। এক কারারক্ষী জানান, তিনি ২৮ বছর ধরে চাকরি করছেন, আজ পর্যন্ত কোনো নারী আ’সামির ফাঁ’সি হয়েছে, এমন কথা শোনেননি। ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্ত নারী আ’সামিদের মধ্যে সবাই হ’ত্যার দায়ে দ’ণ্ডিত হয়েছে বলে কারা সূত্রে জানা গেছে। কলহের জের ধ’রে নিজ পরিবারের কোনো সদস্যকে হ’ত্যার দায়েই ফাঁ’সির দ’ণ্ড পেয়েছে এদের বেশির ভাগ।

কারা সূত্র জানায়, প্রতিটি কনডেম সেল কমবেশি ১০ হাত দৈর্ঘ্য ও ছয় হাত প্রস্থের হয়। প্রতি সেলে তিন-চারজন করে ফাঁ’সির আ’সামিকে রাখা হয়। প্রতি সেলে গ্রিলঘেরা বারান্দা রয়েছে। ওই বারান্দাতেই তাদের হাঁটার সুযোগ মেলে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই তাদের থাকতে হয় সেলের ভেতর ও বারান্দায়। এক কারা কর্মকর্তা জানান, প্রতিদিন দুপুরে গোসল করার জন্য তাদের বের হতে দেওয়া হয়। গোসলের আগে সেলের আশপাশে ১৫-২০ মিনিট হাঁটার সুযোগ দেওয়া হয়। এভাবেই মাসের পর মাস, বছরের পর বছর পেরিয়ে যাচ্ছে তাদের।

ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রাপ্তরা মাসে এক দিন সুযোগ পায় তাদের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করার। তখন তারা সেল থেকে বেরিয়ে কা’রাগারের গেটে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে। সূত্র জানায়, ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্তদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে একটি করে থালা, বাটি ও কম্বল। এর বাইরে আর কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা নেই।