বোলারদের দাপটে বড় জয় নাইটদের

জস বাটলার, সঞ্জু স্যামসন, স্টিভ স্মিথদের জ্ব’লে ওঠার সুযোগ দিলেন না নাইট বোলাররা। প্যাট কামিন্সের দেখানো পথে গতির আ’গুন ঝরালেন কেকেআরের দুই তরুণ পেসার শিবম মাভি ও কমলেশ নাগারকোটি। আর তাতেই তাসের ঘরের মতো ভে’ঙে পড়ল রাজস্থান রয়্যালসের টপ অর্ডার। আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি পিঙ্ক ব্রিগেড। নাইটদের ছুঁড়ে দেওয়া ১৭৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে মুখ থুবড়ে পড়ে রাজস্থানের জয়ের হ্যাটট্রিকের স্বপ্ন। ৩৭ রানে জয় তুলে নেয় কেকেআর।

আইপিএল মানেই চার-ছক্কার রোশনাই। অনেকে বলেন, এটা ব্যাটসম্যানদের টুর্নামেন্ট। কিন্তু এদিন দুবাইয়ে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত তৈরি করলেন দু’দলের পেসাররা। টসে হেরে ব্যাট করতে নামা নাইটদের বিরুদ্ধে যার শুরুটা করেছিলেন জোফ্রা আর্চার ও জয়দেব উনাদকাট। শুরু থেকেই টলমল করতে থাকা সুনীল নারিনকে (১৫) ফিরিয়ে প্রথম ধাক্কাটা দিয়েছিলেন উনাদকাট। প্রতিপক্ষ পেসারদের বল চোখেই দেখতে পাচ্ছিলেন না ক্যারিবিয়ান তারকাটি। তৃতীয় ওভারেই তাকে মাঠ ছাড়তে হত।

কিন্তু নারিনের গগনস্পর্শী ক্যাচটি তালুবন্দি করতে পারেননি রবিন উথাপ্পা। হতা’শায় তাকে বলে থুতু লাগাতেও দেখা যায়। কে জানে, কোভিড বিধি লঙ্ঘ’ন করায় উথাপ্পা শা’স্তির মুখে পড়বেন কি না! তবে জীবন পেয়েও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি নারিন। তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে নীতীশ রানা বড় জুটি গড়ার চেষ্টা করেছিলেন শুভমান গিলের সঙ্গে। কিন্তু তিনিও খুব বেশি দূর এগতে পারেননি। তেওয়াটিয়ার বলে আচমকাই রিয়ান পরাগের হাতে ক্যাচ দিয়ে বসেন নীতীশ (২২)। চাপে পড়ে যায় কেকেআর। রান রেট বাড়াতে রাসেলকে নামিয়ে দেওয়া হয় চার নম্বরে।

কয়েকটা বল দেখার পরেই ঝড় তোলা শুরু করেন ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারটি। তবে ২৪ রানের মাথায় অঙ্কিত রাজপুতের বলে উনাদকাটের হাতে রাসেলের ক্যাচ জমা পড়তেই শাহরুখ খানের হতাশ মুখ ভেসে ওঠে টিভি’র পর্দায়। পাঁচে নেমে ব্যর্থ নাইট অধিনায়কও। কেকেআর ক্যাপ্টেন দীনেশ কার্তিককে (১) কার্যত দাঁড় করিয়ে আউট করেন আর্চার। তার দুরন্ত ডেলিভারি ডিকে’র ব্যাট ছুঁয়ে সোজা চলে যায় উইকেটরক্ষকের হাতে। কেকেআরের ব্যাটিংকে যিনি ভরসা জোগাচ্ছিলেন, সেই শুভমান গিলও রাজস্থানের পেসারটির শিকার।

তবে গত ম্যাচের রেশ ধরে রেখে এদিনও শুরুটা ভালো করেন তিনি। ৩৪ বলে ৫টি বাউন্ডারি ও ১টি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৭ রানে ইংল্যান্ডের তারকা বোলারটিকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে হাফ-সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন গিল। সেখান থেকে নাইটদের টেনে তোলার চেষ্টা করেন ইয়ন মরগ্যান। গত ম্যাচেও শুভমানের সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন তিনি। এদিনও খেললেন ২৩ বলে ৩৪ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস। সেই সুবাদে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রানে পৌঁছায় নাইটরা।

জবাবে নাইটদের পেস আ’ক্র’মণের সামনে শুরু থেকেই নড়বড়ে দেখায় রাজস্থান রয়্যালসকে। দ্বিতীয় ওভারে স্টিভ স্মিথকে ৩ রানে তুলে নেন কামিন্স। পঞ্চম ওভারে ফের ধাক্কা খায় রাজস্থান। দুরন্ত ফর্মে থাকা সঞ্জু স্যামসনকে মাত্র ৮ রানে ফিরিয়ে দেন শিবম মাভি। এর কিছুক্ষণের মধ্যে বাটলারকেও (২১) আউট করে নাইটদের চালকের আসনে বসিয়ে দেন মাভি। চাপের মুখে ব্যাট করতে নেমে ব্যর্থ হন কেকেআরের প্রাক্তনী রবিন উথাপ্পাও (২)। নাগারকোটির দুরন্ত ডেলিভারিতে ডাগ-আউটে ফেরেন তিনি। একই ওভারে রিয়ান পরাগকেও ফিরিয়ে দিয়ে কেকেআরের জয়ের আশা আরও উজ্জ্বল করেন নাগারকোটি।

পেসারদের গড়ে দেওয়া ভিত কাজে লাগিয়ে বাকি কাজটা সম্পন্ন করেন স্পিনাররা। মারকুটে তেওয়াটিয়া ও আর্চারকে আউট করে প্রতিপক্ষের ঘুরে দাঁড়ানোর পথ বন্ধ করে দেন বরুণ চক্রবর্তী। কুলদীপ যাদব ও সুনীল নারিন নিয়েছেন একটি করে উইকেট। শেষদিকে টম কুরান ৩৬ বলে ৫৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেললেও নাইটদের জয় আট’কাতে পারেননি তিনি।