ন্যায় বিচার পাইনি, উচ্চ আদা’লতে যাবো : মিন্নির বাবা

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হ’ত্যার মা’মলায় মিন্নিসহ ৬ জনের মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দিয়েছেন আদা’লত। রায় ঘোষণার পর মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, ন্যায় বিচার পাইনি, উচ্চ আদা’লতে যাবো। গতকাল বুধবার জেলা ও দায়রা জজ আদা’লতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ে অপর ৪ আ’সামিকে খা’লাস দিয়েছেন আদা’লত।

রায়ের পরে রাকিবুল হাসান রিফাত শরীফের বাবা বলেন, রাজনৈ’তিক কারণে তার ছেলেকে ফাঁ’সি দেয়া হয়েছে। তিনিও উচ্চ আদা’লতে যাবেন। রায়ে যেসব আসা’মিদের ফাঁ’সি দেয়া হয়েছে- রাকিবুল হাসান রিফাত শরীফ, আল কাইয়ুম রাব্বি আকন, রেজোয়ানুল ইসলাম টিকটক হৃদয়, হাসান, আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি। যাদের খালা’স দেয়া হয়েছে- রাফিউল ইসলাম রাব্বি, সাগর, কামরুল হাসান সায়মুন, মোহাইমিনুল ইসলাম সিফাত ও মুসা।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে নয়ন ও তার সহযোগী স’ন্ত্রা’সীরা প্রকা’শ্যে রা’মদা দিয়ে কু’পিয়ে রিফাত শরীফকে গু’রুতর আ’হত করে। এরপর এলাকা ত্যাগ করে তারা। গু’রুতর আ’হত রিফাত বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওই দিনই মা’রা যান। ওই ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আ’সামি করে বরগুনা থা’নায় হ’ত্যা মা’মলা করেন। মাম’লায় রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে মাম’লায় ১ নম্বর সাক্ষী করা হয়।

রিফাত হ’ত্যার ঘটনা বরগুনা শহরে ‘কিশোর গ্যাং’য়ের’ দৌরা’ত্ম্যের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে। এসব কিশোর তরুণের পেছনে রাজনৈ’তিক পৃষ্ঠ’পোষক’তার খবর গণমাধ্যমে এলে হ’ত্যার কারণ নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলতে থাকে। এর মধ্যেই ২ জুলাই মাম’লার প্রধান সন্দে’হভাজন সাব্বির আহম্মেদ ওরফে নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযু’দ্ধে নিহ’ত হন। এদিকে মিন্নির শ্বশুরই পরে হ’ত্যাকা’ণ্ডে পুত্রবধূর জ’ড়িত থাকার অ’ভিযোগ তুললে আলোচনা নতুন মোড় নেয়।

১৬ জুলাই মিন্নিকে বরগুনার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে সেদিন রাতে তাকে রিফাত হ’ত্যা মা’মলায় গ্রে’ফতার দেখানো হয়। পর দিন আদা’লতে হাজির করা হলে বিচার’ক তাকে পাঁচ দিনের রিমা’ন্ডে পাঠান। কিন্তু মিন্নির পক্ষে কোনো আইনজীবী সেদিন আদা’লতে দাঁড়াননি, যা নতুন বিত’র্কের জন্ম দেয়। পাঁচ দিনের রিমা’ন্ডের তৃতীয় দিনেই মিন্নিকে আদা’লতে হাজির করা হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়, ওই তরুণী হাকিমের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

তবে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর অভি’যোগ করেন, নির্যা’তন করে ও ভ’য়ভীতি দেখিয়ে মিন্নিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে বাধ্য করেছে পুলিশ। এর পেছনে স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনী’তিবিদদের হাত আছে বলেও তিনি সে সময় দাবি করেন। পরে ২৯ আগস্ট হাইকো’র্ট মিন্নির জা’মিন মঞ্জুর করে। তবে শর্ত দেয়া হয়, জা’মিনে থাকাবস্থায় ১৯ বছর বয়সী ওই তরুণী তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোরের জিম্মায় থাকবেন। আর এই সময়ে মিন্নি গণমাধ্যমের সামনে কোনো কথা বলতে পারবেন না।

এদিকে দুই মাস ৬ দিন তদন্ত করে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর দুই খণ্ডে ২৪ আ’সামির বিরু’দ্ধে বরগুনা সদর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রে’ট আদা’লতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর ১ জানুয়ারি রিফাত হ’ত্যা মা’মলার প্রা’প্তবয়’স্ক ১০ আ’সামির বিরু’দ্ধে চার্জ গঠন করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আ’দালত।

অন্যদিকে গত ৮ জানুয়ারি রিফাত হ’ত্যা মা’মলার অপ্রা’প্তবয়’স্ক ১৪ আসা’মির বিরু’দ্ধে চার্জ গ’ঠন করেন বরগুনার শিশু আ’দালত। এ মা’মলার চার্জশিটভুক্ত প্রা’প্তবয়’স্ক আ’সামি মো. মুসা এখনও পলা’তক রয়েছেন।