মা ছিলেন আমার সবচেয়ে বড় ভক্ত : রশিদ খান

প্রথম দুই ম্যাচে রশিদ খান নিতে পেরেছিলেন এক উইকেট। সেই দুটি ম্যাচই হেরেছিল হায়দরাবাদ সানরাউজার্স। এবারের আইপিএলের তৃতীয় ম্যাচে এসে দেখা গেল আফগান এই লেগ স্পিনারের সেরাটা। গতপরশু রাতে রশিদের নৈপুণ্যে চলতি আসরে প্রথম জয়ের দেখা পেয়েছে হায়দরাবাদ। আবুধাবিতে দিল্লি ক্যাপিটালসকে ১৫ রানে হারিয়েছে তারা। ১৬২ রানের সাদামাটা স্কোর গড়া দলটির জয়ের নায়ক রশিদ।

৪ ওভারে মাত্র ১৪ রান দিয়ে তিনি নেন ৩ উইকেট। ১৪৭ রানে থামে দিল্লি। এর আগে সানরাইজার্সের হয়ে ৩৩ বলে ৪৫ রান করেন ডেভিড ওয়ার্নার। ৪৮ বলে ৫৩ রান করেন জনি বেয়ারস্টো। শেষ দিকে ২৬ বলে ৪১ রান করে ঝড় তুলেছিলেন কেন উইলিয়ামসন। তবে ব্যাটসম্যানদের টুর্নামেন্ট দুর্দান্ত বোলিংয়ে জেতালেন রশিদ। ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দেখানোর পর রশিদ স্মরণ করেন সদ্য প্রয়াত মাকে।

মা ছিলেন তার সবচেয়ে বড় ভক্ত। আইপিএলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতলে সারা রাত কথা বলতেন মায়ের সঙ্গে। রশিদ খানের জন্য এসব এখন কেবলই স্মৃতি, খুব যত্ন করে মনের ভেতরে তুলে রাখা। গত জুনে মারা গেছেন আফগানিস্তানের এই তারকা ক্রিকেটারের মা। পুরস্কার নিতে গিয়ে কথা বলার সময় আবেগ ছুঁয়ে যায় তাকে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের তরুণ লেগ স্পিনার বলেন, ‘গত দেড়টা বছর খুবই কঠিন সময় পার করেছি আমি। প্রথমে আমার বাবা মারা গেলেন (২০১৮ সালের ডিসেম্বরে)। এরপর মা।

সামলে উঠতে তাই একটু সময় লেগেছে। মা ছিলেন আমার সবচেয়ে বড় ভক্ত। বিশেষ করে, আইপিএলে যখনই ম্যান অব দা ম্যাচ হতাম, সবসময়ই আমার সঙ্গে সারা রাত কথা বলতেন মা।’ শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের উইকেট ছিল বেশ মন্থর। তাই শুরু থেকেই স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গতিতে বল করেন রশিদ। ম্যাচে তার প্রথম ডেলিভারিটি ছিল ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার বেগের, দিল্লি অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের বিপক্ষে। বোলিংয়ের কৌশলে পরিবর্তন আনার কারণ জানাতে গিয়ে রশিদ যোগ করেন, ‘আজ (পরশু) জোরে বল করেছি।

প্রথম বলটি করার পরই বুঝতে পারি (উইকেট মন্থর)। দুই-তিনটি বল করলেই বোঝা যায় উপযুক্ত গতি কোনটি (উইকেটের জন্য)।’ হারের হতাশা তো আছেই, সঙ্গে জরিমানাও গুনতে হচ্ছে দিল্লির অধিনায়ক শ্রেয়াসকে। মন্থর ওভার রেটের কারণে তাকে ১২ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। এক বিবৃতি দিয়ে আইপিএল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রথম ইনিংস শেষ করতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ২৩ মিনিট বেশি লেগেছে দিল্লির।