নির্জন কক্ষ থেকে ফোন করে মিন্নির কান্নাকাটি

বরগুনার চাঞ্চল্যকর রিফাত হ’ত্যা মা’মলায় নিহতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা ওরফে মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রায়ের পর মিন্নিসহ ছয় আসা’মিকে বরগুনা জেলা কারাগা’রের কনডেম সেলে রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে বরগুনা কারাগার থেকে মিন্নি তার বাবার সঙ্গে কথা বলে কান্নাকাটি করেছে বলে জানা গেছে। মিন্নিকে কারাগা’রের একটি নির্জন কক্ষে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তার বাবা। সেই কক্ষ থেকেই ফোন করেছেন মিন্নি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলসুপার বলেন, এ মুহূর্তে বরগুনার কারাগারে নারী বন্দিদের মধ্যে একমাত্র মিন্নিই কনডেম সেলে রয়েছে। সকাল ৯টায় তার বাবার সঙ্গে কথা বলেছে মিন্নি। মিন্নি যখন কথা বলেছে, তখন ফোনের কাছে আমাদের একজন ডিউটি করেন। তিনি বলেছেন, মিন্নি কোনো কান্নাকাটি করেনি। সকাল ১০টার সময় অন্য পাঁচজন ফাঁসির আসামিও ফোনে কথা বলেছে।

তিনি বলেন, মিন্নি ছাড়া বরগুনার কারাগারের কনডেম সেলে এখন অন্য কোনো নারীবন্দি নেই। এ ছাড়া রিফাত হ’ত্যা মা’মলার অপর পাঁচজন দ’ণ্ডপ্রাপ্ত পুরুষ আসা’মিকেও কনডেম সেলে রাখা হয়েছে। এই পাঁচজন ছাড়া বরগুনার কারাগারের কনডেম সেলে অন্য কোনো বন্দিও নেই।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, বুধবার মিন্নিসহ ছয়জনের মৃ’ত্যুদ’ণ্ডের রায়ের পর তাদের বরগুনা কারাগারে নেয়া হয়েছে। সেখানে তাদের কনডেম সেলে রাখা হয়। তিনি বলেন, সকাল ১০টার দিকে কারাগার থেকে মিন্নি আমার ও আমার স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছে। সে খুব কান্নাকাটি করেছে। কারা’গারে মিন্নি ভালো নেই। তাকে একা একটি নির্জন কক্ষে রাখা হয়েছে।

মিন্নির বাবা দাবি করেন, আমার মেয়ে নির্দো’ষ। একটি কুচক্রীমহল ষ’ড়য’ন্ত্র করে তার মেয়েকে এ মাম’লায় ফাঁসিয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহলকে আড়াল করার জন্যই এটা করা হয়েছে। আমি রায়ের কপি পাওয়ার আবেদন করেছি। এটি হাতে পেলে উচ্চ আ’দালতে এ রায়ের বিরু’দ্ধে আপিল করব। আমি আশাবাদী, আমার মেয়ে উচ্চ আদা’লতে নি’র্দোষ প্রমাণিত হবে।

শাহনেওয়াজ রিফাত শরীফ হত্যা মা’মলায় মো. রাকিবুল হাসান ওরফে রিফাত ফরাজী, আয়শা সিদ্দিকা ওরফে মিন্নিসহ ছয় আসামির মৃ’ত্যুদ’ণ্ড দেন আ’দালত। বুধবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলার রায় ঘোষণা করেন বরগুনার জেলা ও দায়রা জজ আ’দালতের বিচারক মো. আছাদুজ্জামান। এ মামলায় চারজনকে খালাস দিয়েছেন আ’দালত।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে রিফাত শরীফকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম করে নয়ন বন্ডের গড়া কিশোর গ্যাং বন্ড গ্রুপ। এ ঘটনার একটি ভি’ডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাই’রাল হলে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ২ জুলাই মাম’লার প্রধান আসা’মি নয়ন বন্ড নি’হত হন। রিফাত হ’ত্যা মা’মলায় ২৪ জনকে আ’সামি করে দুটি ভাগে গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর চার্জশিট দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। এর মধ্যে ১০ জন প্রা’প্তবয়স্ক ও ১৪ জন শিশু আ’সামি।

সূত্র: সময় নিউজ।