বৃহত্তর যু’দ্ধে রূপ নিতে চলেছে আজারবাইজান-আর্মেনিয়া যু’দ্ধ!

পূর্ব ইউরোপে দক্ষিণ ককেশাসের বিরো’ধপূর্ণ এলাকা নাগোর্নো-কারাবাখকে কেন্দ্র করে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে কয়েকদিন ধ’রে তী’ব্র ল’ড়া’ই চলছে। এই অঞ্চল নিয়ে দুটো দেশের মধ্যে এর আগেও থেকে থেকে উত্তে’জনা তৈরি হয়েছে, সাম’রিক সং’ঘা’তও হয়েছে, কিন্তু সেগুলো সবই ছিল সীমিত পরিসরে।

সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের এই দুটো দেশের সাম’রিক বা’হি’নীর মধ্যে শুরু হওয়া এবারের যু’দ্ধ আগের সং’ঘা’তগুলোর তুলনায় ভিন্ন। বর্তমান সং’ঘ’র্ষের মাত্রা, ধ’র’ণ এবং আন্তর্জাতিক বিশ্বের প্র’তি’ক্রি’য়া- এসব কিছুই ওই অঞ্চলের সাম্প্রতিক কালের সব উত্তে’জনাকে ছাড়িয়ে গেছে। সাতাশে সেপ্টেম্বর রোববার সকালে হঠাৎ করে শুরু হয়ে যাওয়া এই যু’দ্ধে বড়ো বড়ো কামান, ট্যাঙ্ক, ক্ষে’পণা’স্ত্র এবং ড্রো’ন ব্যবহার করা হচ্ছে।

সং’ঘ’র্ষে এখনও পর্যন্ত শতাধিক বেসামরিক নাগরিক এবং আর্মেনিয়ার বেশ কয়েকজন যো’দ্ধা নি’হ’ত হয়েছে। আজারবাইজানের সাম’রিক খাতে কতো ক্ষ’য়ক্ষ’তি হয়েছে সে বিষয়ে বাকুর পক্ষ থেকে এখনও কিছু বলা হয়নি। তবে ধা’রণা করা যেতে পারে যে তাদেরও প্রচুর ক্ষ’তি হয়েছে। যে জায়গাটির দ’খ’ল নিয়ে দুটো দেশের মধ্যে যু’দ্ধ চলছে, সোভিয়েত ইউনিয়ন ভে’ঙে যাওয়ার পর সেই কারাবাখ অঞ্চল আর্মেনিয়ার সেনাবা’হি’নী দ’খ’ল করে নিয়েছিল।

আন্তর্জাতিকভাবে এই এলাকাটি আজারবাইজানের, কিন্তু এটি পরিচালনা করে জাতিগত আর্মেনীয়রা। দুটো দেশই এই এলাকাটিকে তাদের নিজেদের অংশ বলে দাবি করে। সাম্প্রতিক এই যু’দ্ধ কেন শুরু হলো তার কারণ খুব একটা পরিষ্কার নয়। তবে প্রকা’শিত খবরা-খবর থেকে ই’ঙ্গি’ত পাওয়া যায় যে আজারবাইজানের বা’হি’নী বিস্তৃত এই এলাকাটি পুন’র্দ’খল করতে গেলে সবশেষ এই যু’দ্ধের সূ’ত্রপা’ত।

আর্মেনিয়া ১৯৯২-৯৪ সালে যখন এই নাগোর্নো-কারাবাখ দ’খ’ল করে নেয় তখন সেখান থেকে প্রায় দশ লাখ আজেরি উ’দ্বা’স্তু হয়ে পড়েছিল। এর পর থেকে এই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে দুটো দেশের মধ্যে গত কয়েক দশকে বারবার কূ’টনৈ’তিক অ’চ’লাবস্থার সৃষ্টি হয়, হু’মকি দেওয়া হয় একে অপরকে আ’ক্র’মণের।

ব্রাসেলস-ভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্রা’ইসি’স গ্রুপ বা আইসিজি বলছে, ২০১১ সালে নাগোর্নো-কারাবাখ শান্তি আলোচনা থেমে যাওয়ার পর দুটো দেশের মধ্যে অ’স্ত্র প্রতিযো’গিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি একে অপরকে আ’ক্র’মণ করার হু’মকিও বেড়েছে। আইসিজি বলছে, এমন পরি’স্থিতি তৈরি হয়েছে যে সাম’রিক বিষয়ে কোন ভুল হলে তার পরি’ণতি স্থানীয় বিরো’ধকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে কারণ এই অঞ্চলের সাথে বিশ্বের শ’ক্তিধ’র দেশগুলোর স্বার্থ জড়িত।

আইসিজি বলেছে, “দক্ষিণ ককেশাসে বড় বড় দেশগুলো প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। জ্বালানির জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। ফলে নাগোর্নো-কারাবাখের বাইরেও আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সীমান্তে সং’ঘ’র্ষ হচ্ছে।” দীর্ঘদিনের উত্তে’জনার জে’র ধ’রে ২০২০ সালের জুলাই মাসে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের আন্তর্জাতিক সীমান্তের উত্তরাঞ্চলে সাম’রিক সং’ঘা’তের ঘ’টনাও ঘ’টে।

কিন্তু সেসব উত্তে’জনা ও সং’ঘ’র্ষ এবারের মতো এতোটা তী’ব্র ছিলো না। এর আগে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের বা’হি’নীর মধ্যে যতবারই উত্তে’জনা তৈরি হয়েছে, কয়েকদিন পরেই সেগুলোকে নিয়’ন্ত্রণে আনা গেছে। কিন্তু লন্ডনে গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাটাম হাউজে দক্ষিণ ককেশাস বিশেষ’জ্ঞ ও গবেষক লরেন্স ব্রোয়ার্স বলছেন, বর্তমান যু’দ্ধের যে তী’ব্রতা সেটা দেখে ধা’রণা করা যায় যে এবার হয়তো সেরকম সম্ভব হবে না।

তিনি বলেন, যে অঞ্চলের জন্য ল’ড়া’ই চলছে সেই নাগোর্নো-কারাবাখের জন-অধ্যু’ষিত এলাকায় ক্ষে’পণা’স্ত্র ও বো’মা হা’ম’লা চালানো হয়েছে। ১৯৯০ এর দশকের পর সেখানে এই প্রথম এধ’রনের হা’ম’লার ঘ’টনা ঘ’টলো। আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের বেসামরিক এলাকাতেও হা’ম’লা চালানো হয়েছে।

গবেষক লরেন্স ব্রোয়ার্স বলছেন, “অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে উভয়পক্ষ দী’র্ঘ সময়ের যু’দ্ধের জন্য ক্ষেত্র তৈরি করছে। আর্মেনিয়ার সঙ্গে নতুন করে আলোচনার প্রস্তাব প্র’ত্যা’খ্যা’ন করেছে আজারবাইজান। এছাড়াও এবার তুরস্কের পক্ষ থেকে আজারবাইজানকে যেভাবে সমর্থন দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে সেরকমও আগে দেখা যায়নি। এই যু’দ্ধ যদি দী’র্ঘ সময় ধ’রে চলে তাহলে তাতে বাইরের আরো অনেক শ’ক্তি জড়িয়ে পড়বে যার ফলে আরো বৃহত্তর পরিসরে আঞ্চলিক যু’দ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার আ’শ’ঙ্কা তৈরি হতে পারে।”

তুরস্কের ভূমিকা কী : ভৌ’গলিক কৌ’শলগত কারণে আজারবাইজান তুরস্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। একারণে তুরস্ক বহু আগে থেকেই আজারবাইজানকে নৈতিক ও কূ’টনৈ’তিক সমর্থন দিয়ে আসছে। আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে জুলাই মাসের সং’ঘ’র্ষের পর তুরস্কের প্রতির’ক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আজারবাইজানের সাম’রিক কর্মকর্তাদের যো’গাযো’গ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর পর দুটো দেশ মিলে যৌথ সাম’রিক মহ’ড়াও চালিয়েছে। এবারের সং’ঘা’ত শুরু হওয়ার পর আজারবাইজানের প্রতি নিঃ’শ’র্ত সমর্থন প্রকা’শ করেছে তুরস্ক। তুর্কী প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বলেছেন, আজারবাইজানকে তারা সব ধ’রনের সহায়তা দেবেন। যু’দ্ধ শুরু হওয়ার পর তুরস্কের পক্ষ থেকে আজারবাইজানকে বিভিন্ন রকমের সাম’রিক সহযো’গিতাও দেওয়া হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যু’দ্ধে যে তুরস্কের অত্যা’ধুনিক সাম’রিক প্রযু’ক্তির ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে এবিষয়ে তেমন একটা স’ন্দে’হ নেই। আজারবাইজানের প্রতি আঙ্কারার এই অকু’ণ্ঠ সমর্থনের নি’ন্দা করেছে আর্মেনিয়া। তারা বলেছে, এর ফলে সং’ঘা’ত আরো ছড়িয়ে পড়ার আ’শ’ঙ্কা তৈরি হতে পারে।

আর্মেনিয়ার পক্ষ থেকে আরো অ’ভিযো’গ করা হয়েছে যে তুরস্ক তাদের একটি এসইউ-২৫ বিমান ২৯শে সেপ্টেম্বর গু’লি করে ধ্বং’স করেছে। আঙ্কারা অবশ্য এই অ’ভিযো’গ অস্বী’কার করেছে। চ্যাটাম হাউজের গবেষক লরেন্স ব্রোয়ার্স বলেছেন, এধ’রনের অ’ভিযো’গ আগেও আনা হয়েছিল এবং পরে দেখা গেছে যে এর কোন সত্যতা নেই।

অসম’র্থিত সূ’ত্রে আরো বলা হচ্ছে যে, আজারবাইজানের হয়ে যু’দ্ধ করার জন্য তুরস্ক সিরিয়া থেকে যো’দ্ধাদের সেখানে নিয়ে যাচ্ছে। এরকম এক যো’দ্ধা বিবিসির আরবি বিভাগকে বলেছেন যে গত সপ্তাহে তাকে উত্তর সিরিয়া থেকে সংগ্রহ করে তুরস্ক হয়ে সেখানে পাঠানো হয়েছে। তুরস্ক অবশ্য এই খবর অস্বী’কার করেছে।

রাশিয়ার ভূমিকা কী : এই সং’ঘা’তে রাশিয়ার ভূমিকা নানা রকমের- বি’চি’ত্র এবং কখনো কখনো সেসব ভূমিকা পরস্পরবি’রো’ধী। আর্মেনিয়ার সাথে রাশিয়ার দ্বিপা’ক্ষিক সম্পর্ক রয়েছে। সেদেশে রাশিয়ার সামরিক ঘাঁ’টিও রয়েছে। এছাড়াও নিরা’পত্তাজ’নিত সংস্থা কালেকটিভ সি’কি’উরিটি ট্রিটি অর্গা’নাইজে’শনের মাধ্যমে মস্কো আর্মেনিয়াকে নি’রা’পত্তা সহযো’গিতা প্রদান করে থাকে।

চ্যাটাম হাউজের গবেষক লরেন্স ব্রোয়ার্স বলেন, ”কিন্তু এসব সম্পর্ক ও সহযোগিতা রাশিয়াকে নাগোর্নো-কারাবাখের যু’দ্ধে জ’ড়ানোর সুযোগ করে দেয়নি। কারণ এই এলাকাটি আন্তর্জাতিকভাবে আজারবাইজানের অংশ হিসেবে স্বীকৃত।” আজারবাইজান এবং আর্মেনিয়া- উভয়পক্ষের কাছেই অ’স্ত্র সরবরাহ করে রাশিয়া। আজারবাইজানের সঙ্গেও রাশিয়ার সম্পর্ক ভালো।

গত সপ্তাহে সং’ঘা’ত শুরু হওয়ার পর রাশিয়া যু’দ্ধবিরতির আহবান জানিয়েছে এবং যু’দ্ধ ব’ন্ধ করার ল’ক্ষ্যে উভয়পক্ষের মধ্যে সংলাপ আয়োজনেরও প্রস্তাব দিয়েছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সরকারের প্রতি এই সংলাপে বসার আহবান জানিয়েছেন। এবিষয়ে লাভরভ দুটো দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথাও বলেছেন।

বর্তমান পরি’স্থিতি নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর মধ্যেও কথা হয়েছে এবং তারা দুজনেই অন’তিবি’লম্বে যু’দ্ধ বন্ধ করার আহবান জানিয়েছেন। গবেষক লরেন্স ব্রোয়ার্স বলছেন, আর্মেনিয়ার নেতা নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক খুব একটা সুখকর নয়। একারণে ইয়েরাভান রাশিয়াকে না ডেকে এই উত্তে’জনা নিজেরাই সামাল দিতে চেষ্টা করবে।

তিনি আরো বলেন, এছাড়াও এই যু’দ্ধ যদি শুধুমাত্র নাগোর্নো-কারাবাখ অঞ্চল ও তার আশেপাশের এলাকার মধ্যেই সীমিত রাখা সম্ভব হয় তাহলে এই সং’ঘা’তে রাশিয়ার জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা কম। কারণ মস্কো দেখাতে চাইবে যে তাদের অবস্থান নিরপেক্ষ। তবে এই যু’দ্ধ যদি দী’র্ঘা’য়িত হয় এবং তাতে তুরস্ক আরো বেশি করে জড়িয়ে পড়ে তখন ওই অঞ্চলে রাশিয়ার আ’ধি’পত্য খর্ব হওয়ার আ’শ’ঙ্কার কথা বিবেচনা করে রাশিয়া সেখানে স’ক্রি’য় হয়ে উঠতে পারে।

ফ্রান্সের অবস্থান : ফ্রান্সে জাতিগত বহু আর্মেনীয় বসবাস করে যেখানে তুরস্ক সবসময়ই আজারবাইজানকে সমর্থন দিচ্ছে। ফলে এই সং’ঘা’তকে কেন্দ্র করে নেটোর এই দুটো মিত্র দেশের মধ্যেও উত্তে’জনা তৈরি হয়েছে। টার্কিক এই অঞ্চলে যু’দ্ধে জড়ানোর ব্যা’পারে তুরস্ককে সত’র্ক করে দিয়েছে ফ্রান্স। ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ”তুরস্কের যু’দ্ধস্বরূপ” কথাবার্তার নি’ন্দা করেছেন।

ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ”নাগোর্নো-কারাবাখ পু’নর্দ’খলে নেওয়ার ব্যা’পারে আজারবাইজানের যতোটুকু স’ঙ্কো’চ ছিল, আঙ্কারার সমর্থনের কথা ঘোষণা করার পর সেটাও দূর হয়ে গেছে যা ফ্রান্সের কাছে কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এর জ’বাবে তুর্কী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসলো ফ্রান্সের বি’রু’দ্ধে অ’ভিযো’গ এনে বলেছেন যে আজারবাইজানে আর্মেনিয়ার দ’খ’লদা’রিত্বকে তারা সমর্থন করছে।

অন্যান্য দেশের ভূমিকা : তুরস্ক ছাড়া বাকি আঞ্চলিক ও বিশ্বনেতারা সং’য’ম প্রদ’র্শনের আহবান জানিয়ে বলেছেন আলোচনার মাধ্যমে উত্তে’জনা প্র’শ’মন করার কথা। ইরান, জর্জিয়া এবং কাতার এতে মধ্য’স্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছে। সবশেষ প্রস্তাবটি এসেছে রাশিয়ার পক্ষ থেকে। জাতিসংঘের নিরা’পত্তা পরিষদে ২৯শে সেপ্টেম্বর সর্বশেষ পরি’স্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে এবিষয়ে মধ্য’স্থতা করবে মিনস্ক গ্রুপ যাতে সভাপতিত্ব করছে ফ্রান্স, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে নিরা’পত্তা ও সহযোগিতা বিষয়ক সংস্থা ওএসসিই।

তবে গবেষকরা বলছেন, কূ’টনৈ’তিক আলোচনার ব্যাপারে বিভিন্ন দেশ কতোটা আন্তরিক হবে সেটা বলা ক’ঠি’ন। কারণ এই যু’দ্ধ এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে যখন সারা বিশ্ব করোনা ভাইরাস ম’হামা’রির সঙ্গে যু’দ্ধে লি’প্ত। তার সঙ্গে আছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ফলে এই সং’ঘা’ত সমা’ধানে শ’ক্তিধর দেশগুলো কতোটা মনযোগী হবে তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।

চ্যাটাম হাউজের গবেষক লরেন্স ব্রোয়ার্স বলছেন, ”আজারবাইজান হয়তো খুব দ্রুত কিছু এলাকা পু’নর্দ’খল করে নিয়ে সাম’রিক সাফল্য অর্জন করতে পারে। অথবা আর্মেনিয়ার বা’হি’নী আজারবাইজানের এই চেষ্টা ন’স্যাৎ করে দিতে পারে। যু’দ্ধবিরতিও হতে পারে। তবে এসবের যা কিছুই হোক না কেন বর্তমান এই সং’ঘা’তের কারণে যে অভ্য’ন্তরীণ স্থি’তি বি’ন’ষ্ট হবে তা নিয়ে কোন স’ন্দে’হ নেই।

তিনি বলছেন, ”এই যু’দ্ধ যদি বেশি সময় ধরে গড়ায় এবং তাতে একটি পক্ষের পরা’জয় ঘ’টতে থাকে তখন রাশিয়া এবং তুরস্কের পক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া খুব একটা সহজ হবে না।” নাগোর্নো-কারাবাখকে কেন্দ্র করে দুটো দেশের মধ্যে অমী’মাং’সিত বি’রো’ধের কারণে যে বি’প’দ হতে পারে সেবিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ বা আইসিজি বহু বছর ধ’রেই স’ত’র্ক করে আসছে।

সর্বশেষ এই যু’দ্ধ শুরু হওয়ার পর তারা বলছে, পরি’স্থি’তি শান্ত করতে উভয়পক্ষের মধ্যে স’মঝো’তার জন্য রাশিয়াকে আরো বেশি স’ক্রি’য় হতে হবে। সংস্থাটি বলছে, রাশিয়া যদি ঘোষণা করে যে যু’দ্ধ না থামালে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানে তারা অ’স্ত্র সরবরাহ ব’ন্ধ করে দেবে তাহলে এই কাজটি অনেক বেশি সহজ হয়ে যেতে পারে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা