‘বাবা কনডেম সেলে আমি ভালো নেই’

রিফাত হ’ত্যা মা’মলায় মৃ’ত্যুদ’ণ্ডপ্রাপ্ত রিফাতের স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি বর্তমানে বরগুনা কারাগা’রের কনডেম সেলে রয়েছেন। সেখান থেকে গত বৃহস্পতিবার সকালে ফোন করেন বাবা মোজাম্মেল হক কিশোরকে। এ সময় মিন্নি তার বাবাকে বলেন, ‘বাবা আমাকে কারাগা’রের নির্জন কক্ষে রাখা হয়েছে। কনডেম সেলে আমি ভালো নেই। আমি নি’র্দোষ। আমি এই খুনের সঙ্গে জড়িত নই। সত্যের জয় একদিন হবেই। তোমরা ধৈর্য ধর। দ্রুত আপিল করে আমাকে ছাড়ানোর ব্যবস্থা করো।’ কারাগা’রের একটি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পাঁচ মিনিটের এই কথোপক’থনের অধিকাংশ সময়জুড়ে মিন্নি তার বাবাকে দ্রুত আপিল করার কথা বলেন। কারা’গারে একাকী একটি কনডেম সেলে মিন্নি রয়েছেন। বরগুনা কারাগা’রে মিন্নি ছাড়া আর কোনও ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নেই। কারাগা’রের এক কর্মকর্তা জানান, কনডেম সেলে মিন্নি একা। ওই সেলের পাহারায় রয়েছেন একজন নারী কারারক্ষী। কারা’বিধি অনুযায়ী ফাঁ’সির আসা’মি হিসেবে মিন্নিকে কয়েদির পোশাক দেওয়া হয়েছে। সাদা রঙের শাড়ির ওপর নীল স্ট্রাইপ রয়েছে। এটা সব নারী ফাঁ’সির আসা’মিদের দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী দুটি শাড়ি তাকে দেয়া হয়েছে।

এছাড়া তাকে দেয়া হয়েছে একটি বালিশ ও কম্বল। এর আগে ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রা’প্ত আ’সামিদের বালিশ দেয়া হতো না। কারাবিধি অনুযায়ী তিনটি কম্বল দেওয়া হতো। তার মধ্যে একটি কম্বলকে বালিশ হিসেবে ব্যবহার করতেন আসা’মিরা। এদিকে মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হক কিশোর বলেছন, আমার মেয়ে জেলখানায় ভালো নেই। সে মান’সিকভাবে ভেঙে পড়েছে। ষ’ড়য’ন্ত্র করে আমার মেয়েকে ফাঁ’সির দ’ণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। আমি এ রায়ের বিরু’দ্ধে উচ্চ আ’দালতে আপিল করব।

মিন্নির বাবা আরও বলেন, আমার মেয়ে তার স্বামী রিফাত শরীফকে জীবনের ঝুঁ’কি নিয়ে স’ন্ত্রা’সীদের হাত থেকে রক্ষার আপ্রা’ণ চেষ্টা করেছে। সে একাই রিফাতকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এসব ঘটনা দেশের মানুষ ভি’ডিওতে দেখেছে। তবু এই মাম’লায় আমার মেয়েকে ফাঁসা’নো হয়েছে। জেল সুপার আনোয়ার হোসেন বলেন, মিন্নিসহ ফাঁ’সির দ’ণ্ডাদেশপ্রা’প্ত আসামিদের সকালে ডাল, সবজি, রুটি; দুপরে ভাত মাছ দেয়া হয়। আবার কখনও ভাত ও মাং’স দেওয়া হয়। দুপরে একই ধরনের খাবার থাকে।

গেলো বুধবার রিফাত হ’ত্যা মা’মলার রায়ে তার স্ত্রী মিন্নিসহ ছয়জনকে মৃ’ত্যুদ’ণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকে মিন্নিসহ ফাঁ’সির দ’ণ্ডপ্রাপ্ত সবাইকে বরগুনা জেলা কারা’গারে রাখা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর ছয় আ’সামিকে বিকেল তিনটার দিকে কা’রাগারে নেয়া হয়। রায় শোনার পর থেকেই মিন্নি বিষণ্ন হয়ে পড়েন। সেই বি’ষণ্নতা কনডেম সেলে আরও বেড়েছে। রাতে খাবারদাবার দেওয়া হলে সামান্য খেয়েছেন।

গেল বছরের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাতকে নৃ’শংসভাবে ধারালো দা দিয়ে কো’পানো হয়। তারপর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তিনি মা’রা যান।

সূত্র: আরটিভি অনলাইন।