ভ্যান চালিয়ে প্রিয়মকে বড় করেছেন বাবা, ছেলের দ্যুতি দেখে যেতে পারলেন না মা

২০১১ সালে প্রিয়মের মা প্রয়াত হন। তখন প্রিয়মের বয়স মাত্র ১১।  তাঁর বয়সি ছেলেরা যখন পড়াশুনা করে নিজেদের কেরিয়ার গড়ার লক্ষ্যে দৌড়াচ্ছেন, তখন তিনি ব্যাট হাতে বিপক্ষ বোলারদের শাসন করতে ব্যস্ত। অনূর্ধ্ব -১৯ ভারতীয় দলের অধিনায়ক হয়ে ভারতকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে এখন তিনি পা রেখেছেন কোটিপতি লিগে। শুক্রবার আরবের মাটিতে ব্যাট হাতে দ্যুতি ছড়ালেন। চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে ২৬ বলে ৫১ করে অপরাজিত থাকলেন প্রিয়ম গর্গ। ফিল্ডিংয়ের সময় দুরন্ত ফিটনেস দেখাচ্ছেন।

তাঁর জীবনের লড়াইটা অবশ্য যথেষ্ট কঠিন ছিল। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ভারতের অধিনায়ক প্রিয়ম গর্গের বাবা স্কুল ভ্যানের চালক। প্রতিদিন লড়াই করে পয়সা জমিয়েছেন। অত্যন্ত কষ্ট করে ছেলেকে অনুশীলন করিয়ে আজ এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। প্রিয়মের এক দাদা এবং তিন দিদিও আছেন। সবচেয়ে ছোটো প্রিয়ম।

বড় পরিবার সামলে প্রিয়মের ক্রিকেটের জন্য টাকা খরচের সামর্থ্য ছিল না তাঁর বাবার কাছে। প্রিয়মের ক্রিকেটের প্রতি ভালোবাসা তাঁর বাবাকে উদ্ধুদ্ধ করে। প্রিয়মের বাবা তাঁর বন্ধুদের থেকে টাকা ধার করে ক্রিকেট সরঞ্জাম কিনে দিয়েছিলেন। একটি কোচিং ক্যাম্পেও ভরতি করে দিয়েছিলেন।

২০১১ সালে মারা যান প্রিয়মের মা। তখন প্রিয়মের বয়স মাত্র ১১। মায়ের স্বপ্ন ছিল, প্রিয়মকে দেশের হয়ে খেলতে দেখা। সিনিয়র দলের হয়ে না খেললেও দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রিয়ম। তারপর আইপিএলের মঞ্চেও দ্যুতি ছড়াচ্ছেন তিনি। কিন্তু তা সামনা-সামনি দেখতে যেতে পারলেন না প্রিয়মের মা।

সূত্র: হিন্দুস্থান টাইমস।