‘নিজ ভূখন্ড পুনরু’দ্ধারের অধিকার আজারবাইজানের রয়েছে’

আন্তর্জাতিক আইনানুসারে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার আছে আজারবাইজারেনর। এ অধিকার নিয়ে দেশটি তার অপহৃতভূমি মুক্ত করতে অভি’যান চালাতে পারবে বলে মনে করেন বিশেষ’জ্ঞরা। জাতিসংঘের ৫১নং অনুচ্ছেদ অনুসারে আজারবাইজানের আইনগত অধিকার আছে নিজেকে রক্ষা করার এবং নিজের দ’খল হওয়া ভূমি মুক্ত করতে অভি’যান চালাবার।

আজারবাইজানের নগার্নো-কারাবাখ অঞ্চলের উপর আর্মেনিয়ার সামরিক বাহিনীর আ’ক্রমণের পর এমন ম’ন্তব্য করেন বিশেষজ্ঞরা। তুর্কি সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির সাথে আলাপের সময় বিশেষজ্ঞরা বলেন, আজারবাইজানের ভূখন্ডে আর্মেনিয়ার আগ্রাসনের জবাবে দেশটি আন্তর্জাতিক আইনানুসারে পদক্ষেপ নিয়েছে।

আঙ্কারার ইলদ্রিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের প্রফেসর উকেল আছের বলেন, জাতিসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ঘোষণা মোতাবেক আর্মেনিয়া এবং কারাবাখ অঞ্চলের সশস্ত্র আর্মেনিয় গোষ্ঠীকে কারাবাখ অঞ্চলে তাদের দ’খলকৃত ভূমি হতে ফিরে আসতে হবে। জাতিসঙ্ঘের এ আহব্বানকে মেনে চলা হয়নি।

এমনকি ইরোপীয় নিরাপত্তা ও সহেযোগিতামূলক সংস্থার আওতায় মিনস্ক গ্রুপের নেয়া সি’দ্ধান্ত গুলোকেও আমলে নেওয়া হয়নি। বেআইনিভাবে আজারবাইজানের দ’খলকৃত ভূখন্ডের ব্যাপারে কোন সমাধানও আসেনি। আর্মেনিয়ার এ দখলদারিত্বের কারণে একটি অরাজক পরিস্থি’তির সৃস্টি হয়। যার ফলে প্রায় লক্ষাধিক আজারবাইজানিকে উ’দ্বাস্তু হতে হয় নিজেদের জীবন বাঁচাতে।

রাষ্ট্রের আত্মরক্ষা সংক্রা’ন্ত জাতিসংঘের ৫১নং অনুচ্ছেদের উপর জো’র দিয়ে আছের বলেন, যু’দ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা চলাকালীন সময়ে আর্মেনিয়া সামরিক আগ্রাসন অব্যাহত রাখলে আজারবাইজানের আইনগত অধিকার থাকবে নিজেকে রক্ষা করার। এ অধিকার ততক্ষণ পর্যন্ত থাকবে যতক্ষণ না আজারবাইজান তার দখল হয়ে যাওয়া ভূমি পুন’রুদ্ধার করতে পারবে। একমাত্র জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কোন পদক্ষেপ ছাড়া আজারবাইজানের এ স্বশস্ত্র প্রতিরক্ষা চলমান থাকবে।

মারমারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক আইনের প্ররেফসর সেলামি কুরান বলেন, মিনস্ক গ্রুপ ৩০ বছর ধরে আজারবাইজানকে আপার(উচ্চ) কারাবাখ অঞ্চল ফেরত দিতে কোন শক্ত পদক্ষেপ নেয়নি। যেখানে আন্তর্জাতিক আইনানুসারে আর্মেনিয়া এ অঞ্চল অবৈধভাবে দ’খল করে রেখেছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ১৯৯৩ সাল হতে ব্যাপারটার সাথে জড়িত উল্লেখ করে কুরান বলেন, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ কতৃক চারটি প্রস্তাব পাশ হয়। যেখানে আর্মেনিয়ার নিন্দা করা হয়। যদি ওই সময়ে আর্মেনিয়ার উপর সামরিক, রাজিনৈ’তিক ও অর্থনৈ’তিক অবো’রোধ আরোপ করা হতো তাহলে এ অবৈ’ধভাবে দখ’লদারিত্বেরও অবসান হতো। কিন্তু তারা তা করেনি তারা আর্মেনিয়ার আগ্রাসনের ব্যাপারে নিশ্চুপ ছিল। কুরান আরো বলেন, গত ৩০ বছর ধরে যু’দ্ধবিরতির মাধ্যমে এ সংঘা’তের কোন শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়নি।

তিনি জাতিসংঘের নিন্দা করে বলেন, জাতিসংঘের কাজ এটা নয় যে শুধু নিন্দা করা বা যু’দ্ধবিরতির প্র’স্তাব দেয়া। তারা কোন অবরোধের পদক্ষেপ না নিয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে ব্যাপারটা সমাধান করতে চেয়েছে। এতে অবৈ’ধ দ’খলদার আর্মেনিয়া আরো অনুপ্রাণিত হয়েছে আন্তর্জাতিক আ’ইন ভ’ঙ্গ করার। তাই আজারবাইজানের অধিকার আছে এর জবাব দেওয়ার।