স্ত্রীকে ছাত্রাবাসে নেন তারেক, পালা’ক্রমে ধর্ষ’ণ করেন আটজন

সিলেটের এমসি ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে গণধ’র্ষণের মাম’লার এজাহারভুক্ত আরও দুই আ’সামি তারেক ও মাসুম ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ নিয়ে আলোচিত গণ’ধর্ষণ মাম’লায় গ্রে’ফতার আটজনের সবাই আদা’লতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেন। এর আগে গত শুক্র ও শনিবার রাতে দুই দফায় তিনজন করে ছয়জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

রোববার (০৪ অক্টোবর) সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমানের আদা’লতে তারেক ও মুখ্য মহানগর হাকিম (দ্বিতীয়) আদালতের বিচারক মো. সাইফুর রহমানের আদা’লতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মাসুম।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মামলার ২ নম্বর আসা’মি তারেকুল ইসলাম তারেক জবানবন্দিতে আদা’লতকে জানান, এমসি কলেজ গেট থেকে গৃহবধূর সঙ্গে থাকা লোকদের সরিয়ে প্রাইভেটকার চালিয়ে ছাত্রাবাসে নিয়ে যান। এরপর পর্যায়ক্রমে সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর ও তারেক গৃহবধূকে ধর্ষ’ণ করেন।

মাম’লার অপর আ’সামি এমসি কলেজ ছাত্র মাহফুজুর রহমান মাসুম আদা’লতকে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান তিনি। তিনি ওই নারীকে ধর্ষ’ণ করেননি। ছাত্রাবাসে তার নামে একটি কক্ষ বরাদ্দ থাকলেও এটি ব্যবহার করতেন ধর্ষ’ণ ও অ’স্ত্র মাম’লার প্রধান আসা’মি ছাত্রলীগকর্মী সাইফুর।

রোববার দুই আ’সামি দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) অমূল্য কুমার চৌধুরী। তিনি বলেন, তারা দুজন ধর্ষ’ণের সঙ্গে জড়িত থাকার দায় স্বীকার করেছেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের কারাগা’রে পাঠানো হয়। এ নিয়ে মাম’লায় গ্রেফ’তার আট আসা’মি ধর্ষ’ণের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

পাঁচদিনের রি’মান্ড শেষে রোববার বিকেল পৌনে ৩টার দিকে মাম’লার ২ নম্বর আ’সামি তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), ৬ নম্বর আসামি মাহফুজুর রহমান মাসুমকে অতিরিক্ত মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমানের আদা’লতে হাজির করা হয়।

এরপর তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এর আগে শুক্রবার রাতে ও শনিবার সন্ধ্যায় আলোচিত এ মাম’লার অপর ছয় আসা’মি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর, রবিউল ইসলাম, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, মিসবাহ উর রহমান রাজন ও আইনউদ্দিন আ’দালতে ১৬৪ ধারায় ধ’র্ষণের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

এতে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে তারা ধ’র্ষণের বিস্তারিত বর্ণনা দেন। জবানবন্দিতে কে ধ’র্ষণ করেছেন আর কারা সহায়তা করেছেন এসব তথ্য অক’পটে আদা’লতকে অবহিত করেন তারা। এর আগে চাঞ্চল্যকর এই মা’মলায় গ্রেফ’তার আট আসা’মির প্রত্যেককে ধাপে ধাপে পাঁচদিন করে রিমা’ন্ডে নেয় পুলিশ।

২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণ’ধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। রাত সাড়ে ৮টার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসের সামনে প্রাইভেটকারের মধ্যে পালা’ক্রমে ধর্ষ’ণ করেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় কলেজের সামনে তার স্বামীকে আট’কে রাখেন দুজন।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে শাহপরান থা’নায় মাম’লা করেন। মাম’লায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসা’মি করা হয়। গণধ’র্ষণে অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী।

এ ঘটনায় র‌্যাব ও পুলিশ এজাহারভুক্ত ছয় আ’সামিসহ সন্দেহভাজন আরও দুজনকে গ্রেফ’তার করে। গ্রেফ’তারকৃত মোট আটজনের সবাইকে ধাপে ধাপে পাঁচদিন করে রিমা’ন্ডে নেয় পুলিশ। শুক্রবার, শনিবার ও রোববার ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আট আ’সামি।

সূত্র: নিউজ২৪।