যু’দ্ধে আর্মেনিয়াকে রক্ষার বাধ্যবাধকতা নেই রাশিয়ার : পুতিন

নাগার্নো-কারাবাখ নিয়ে দশম দিনের মতো যু’দ্ধ চলছে আর্মেনিয়া এবং আজারবাইজানের মধ্যে। যু’দ্ধের নয়দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো অধরা সমাধানসূত্র। আজারবাইজানের সাথে যু’দ্ধে আর্মেনিয়া খুব বেশি সুবিধা করতে পারছে না। নাগার্নো করাবাখের একের পর এক শহর, এলাকা ও গ্রাম দখল করছে আজারবাইজান। যু’দ্ধে আর্মেনিয় সেনাবাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষ’তিসহ যু’দ্ধক্ষেত্র থেকে আর্মেনিয় সেনাদের পালিয়ে যাওয়ার খবরও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে আসছে।

এই অবস্থায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে নিঃসন্দেহে হতাশ হয়েছে আর্মেনিয়া। প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন,‘আজারবাইজানের সাথে চলমান যু’দ্ধে আর্মেনিয়াকে রক্ষার কোনো বাধ্যবাধকতা রাশিয়ার নেই। কারণ আজারবাইজানের সাথে এই যু’দ্ধ আর্মেনিয়ার ভূখণ্ডে হচ্ছে না।’

বুধবার রাশিয়ার সরকারি প্রচারমাধ্যমে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্লাদিমির পুতিন একথা বলেন। এসময় আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে অস্ত্রবিরতির উপর গুরুত্বারোপ করেন পুতিন। দুইদেশের মধ্যকার এই সঙ্ঘাতে রাশিয়া উদ্বি’গ্ন বলেও জানান তিনি।

এদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘তাস’ জানিয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ফোনে কথা বলেছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ। সর্বশেষ আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তারা আলোচনা করেন বলে রুশ ওই বার্তা সংস্থা জানিয়েছে।

উল্লেখ্য, পূর্ব ইউরোপে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সং’ঘাতপূর্ণ এলাকার নাম নাগোর্নো-কারাবাখ। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাবার পর থেকে আর্মেনিয়া আর আজারবাইজানের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে বিতর্কিত এই এলাকা কার তা নিয়ে। দুই প্রতিবেশি দেশ একে অপরের চরম শত্রুতে পরিণত হয়েছে এই নাগোর্নো কারাবাখ ভূখন্ডকে কেন্দ্র করে।

আর্মেনীয়দের জন্য এই এলাকা তাদের প্রাচীন খ্রিস্টীয় সংস্কৃতির শেষ ধারক হিসাবে গুরুত্বপূর্ণ। আর আজেরিদের জন্য কারাবাখ মুসলিম সংস্কৃতির একটা প্রাণকেন্দ্র, তাদের ঐতিহ্যবাহী মুসলিম কবি ও সঙ্গীতজ্ঞদের পবিত্র জন্মস্থান।

সোভিয়েত জমানাতে নাগোর্নো-কারাবাখ ছিল আজারবাইজানের মধ্যে একটি স্বায়ত্তশাসিত এলাকা। কিন্তু সেখানে জনসংখ্যার একটা বড় অংশ ছিল জাতিগত আর্মেনীয়রা।

সোভিয়েত সাম্রাজ্য যখন ১৯৮০’র দশকের শেষ দিকে ভেঙে পড়তে শুরু করে, তখন নাগোর্নো-কারাবাখের আঞ্চলিক পার্লামেন্ট আর্মেনিয়ার অংশ হিসাবে থাকার পক্ষে ভোট দেয়। এর জেরে শুরু হয় যু’দ্ধ। মারা যায় প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।

রাশিয়া তখন একটা যুদ্ধবিরতি করার ব্যাপারে মধ্যস্থতা করেছিল। সেটা হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। কিন্তু যু’দ্ধবিরতি হলেও কখনও দুই প্রতিবেশি দেশের মধ্যে কোন শান্তিচুক্তি হয়নি।

ফলে বিত’র্কিত এই ছিটমহল সরকারিভাবে আজারবাইজান ভূখন্ডের অংশ হিসাবে থেকে গেলেও, বিচ্ছিন্নতকামী জাতিগত আর্মেনীয়রা কারাবাখ এবং আশেপাশের সংযুক্ত আরও সাতটি এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। প্রায় ছয় লাখ জাতিগত আজেরি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

উল্লেখ্য, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে দেশ দুটির মধ্যে আবারো সং’ঘর্ষ শুরু হলে রাশিয়া, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন পরাশক্তি জরুরী ভিত্তিতে অ’স্ত্রবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে নিজেদের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষার অধিকার আজারবাইজানের রয়েছে বলে জানিয়েছে তুরস্ক।

সূত্র : ডেইলি সাবাহ