শমী কায়সারের যত খুশি তত বিয়ে করার স্বাধীনতা আছে : তসলিমা নাসরিন

অভিনেত্রী শমী কায়সারের বিয়েকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে পক্ষে-বিপক্ষে নানা তর্ক। কেউ শমীর তৃতীয় বিয়ে করাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন, আবার কেউ এটাকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন। শমী কায়সার ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন লেখিকা তসলিমা নাসরিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত তসলিমার লেখাটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

আমার মাথায় যখন বুদ্ধি শুদ্ধি বলতে কিছু ছিল না, তখন বিয়ে করেছিলাম। চাপে পড়ে এবং উপায় না দেখে মনে করেছিলাম বিয়েটা বুঝি করতেই হবে। ঘর সংসার না করলেও বিয়ে জাতীয় কিছু একটা করেছিলাম বলে তখন বিশ্বাস করেছিলাম। অবশ্য আইনের চোখে ওগুলো হয়তো বিয়েই ছিল না।

আমি অবাক হই যখন দেখি বয়স হওয়া, অভিজ্ঞতা হওয়া, মাথায় বুদ্ধি শুদ্ধি প্রচুর, উপার্জন প্রচুর, নিজের পায়ে দাঁড়ানো স্বাবলম্বী মেয়েরা এই কুৎসিত পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বিয়ে করে! আজ দেখলাম শমী কায়সার ভীষণ সেজেগুজে তার তৃতীয় বিয়েটি করছে। কী গ্যারান্টি যে এই পুরুষটির সঙ্গে দীর্ঘদিন সে বাস করতে পারবে! কিছু ন্যাড়া হয়তো বারবার বেলতলায় যেতে পছন্দ করে।

শমীর যত খুশি তত বিয়ে করার স্বাধীনতা আছে। এ তার জীবন। এই জীবনকে তার পছন্দ- মতো যাপন সে করবে। কেউ বাধা দেওয়ার নেই। শমী সুখে শান্তিতে থাকুক। বাংলাদেশের মতো নারীবিদ্বেষী সমাজে স্বাধীন এবং সচেতন কোনো মেয়ে এমন কোনো পুরুষ কি পেতে পারে যে-পুরুষ নারীর সমানাধিকারে একশভাগ বিশ্বাস করে? আমার সংশয় হয়। শিক্ষিত, এমন কী উচ্চশিক্ষিত মেয়েদেরও নিজের স্বাধীনতা এবং অধিকার বিসর্জন দিয়ে বিয়ে টিকিয়ে রাখতে হয়।

বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে আমি বিয়ে টিয়ে করি না। আমার সংসার আমার একার সংসার। একার সংসারের মতো চমৎকার আর কিছু নেই। বিশেষ করে স্বনির্ভর এবং সফিস্টিকেটেড মেয়েদের সংসার। যত দিন পুরুষেরা নারীবিদ্বেষী, যত দিন চারদিকে কুৎসিত পুরুষতন্ত্রের জয়জয়কার, যত দিন তারা প্রভুর ভূমিকায়, তত দিন তাদের গলায় মালা পরানোর কোনো অর্থ হয় না। জানি কেউ কেউ বলবে সব পুরুষ মন্দ নয়।

অবশ্যই নয়, মন্দ-নয়-পুরুষেরা স্ত্রীদের দেখভাল করে, স্ত্রীদের ভাত কাপড় দেয়, সম্ভব হলে গয়নাও গড়িয়ে দেয়। মন্দ-নয়-পুরুষেরাও কিন্তু অবাধ্য স্ত্রীদের সহ্য করে না। সুতরাং অবাধ্য হলে চলবে না। আমি আবার অবাধ্য মেয়েদের খুব ভালোবাসি।