‘আপনাদের দেখিয়ে দেবো এর চেয়ে শক্তিশালী কমিটি হতে পারে না’

ফাইল ছবি

নির্বাহী পরিষদের ১৮ জন সদস্যকে (২১টি পদ) নিয়ে নিজের চতুর্থ মেয়াদের প্রথম সভা করলেন কাজী সালাউদ্দিন। রবিবারের সেই সভায় গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রধানের পদ ঠিক হয়েছে। এর মধ্যে জেলার ফুটবল দেখভালের দায়িত্বটা নিজের কাছেই রেখেছেন সালাউদ্দিন। এছাড়া দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটিতে কোনও পরিবর্তন আসেনি।

আবারও পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান হয়েছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি আগেরজনই আব্দুস সালাম মুর্শেদী। পাশাপাশি ফিন্যান্স কমিটিও তিনি দেখবেন। জাতীয় টিমস কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছে অন্যতম সহ-সভাপতি কাজী নাবিল আহমেদকে। নতুন দায়িত্ব হিসেবে লিগ্যাল কমিটিও তার অধীনে থাকবে। অন্য দুই সহ-সভাপতির মধ্যে ইমরুল হাসান পেয়েছেন মহানগরী ফুটবল কমিটি। অন্যজন আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক ডেভলপমেন্ট কমিটি। যদিও গতবার এই কমিটি ছিল সালাউদ্দিনের অধীনে।

ডেভলপমেন্ট কমিটি সম্পর্কে সালাউদ্দিনের কথা, ‘ডেভলপমেন্ট কমিটির দায়িত্ব বলতে গেলে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিয়েছেন আতাউর রহমান ভূঁইয়া মানিক, যেটা আমার কাছে ছিল। বলেছেন, আমার থেকে আরও ভালো (বেটার) করবেন।’ পরিবর্তন হয়নি নারী ফুটবল কমিটিতেও। একমাত্র মহিলা সদস্য মাহফুজা আক্তার কিরণকেই আবারও এটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া রেফারিজ কমিটি জাকির হোসেন চৌধুরী, কম্পিটিশন কমিটি হারুনুর রশীদ, স্কুল কমিটি বিজন বড়ুয়া ও বিচ এবং ফুটসাল কমিটি সত্যজিৎ দাশ রুপু, এথিকস অ্যান্ড ফেয়ারপ্লে কমিটি আজমালুল হোসেন কিউসি, প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি আখতার হোসেন খান, ডিসিপ্লিনারি কমিটি মেজবাহউদ্দিন ও আপিল কমিটি আব্দুল মূয়ীদ চৌধুরীর কাঁধে চেপেছে।

প্রথম সভায় স্ট্যান্ডিং কমিটিগুলোর প্রধানের পদ ঠিক করে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘আমাদের খুব ভালো সভা হয়েছে। সবাই এখানে ফুটবল করতে এসেছেন। আমাদের কয়েকজনের আগের মেয়াদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে নতুনদের সঙ্গে আলাপ করেছি। নতুনরা সবাই রোমাঞ্চিত কাজ করার জন্য। আমরা কাজ করার জন্য প্রস্তুত। নতুনদের অভিনন্দন জানাই। কিছু কমিটির চেয়ারম্যান নির্ধারণ করে দিয়েছি, কারণ আমাদের দ্রুত কাজ শুরু করতে হবে।’ নিজের দায়িত্ব নিয়ে সাবেক এই ফুটবল তারকা বলেছেন, ‘আমি জেলার ফুটবল দেখার দায়িত্ব নিয়েছি।

শোনা যায় লিগ হয় না জেলায়। তাই আমি এটা দেখবো। ওই শূন্যতা ঘোচাতে করতে যাতে কারও ওপর ভরসা করতে না হয়। আমি তাদের আর্থিক সহায়তা দেবো। আমার কলিগরাও আমাদের সঙ্গে থাকবে, আমি কমিটি করে আপনাদের দেখিয়ে দেবো এর চেয়ে শক্তিশালী কমিটি বাংলাদেশে হতে পারে না। এই কমিটি ফাইনান্সিয়াল ও টেকনিক্যাল সহায়তা দেবে। খুব শক্তভাবে লিগগুলো মনিটরিং করা হবে। এসবের পরেও যদি কোনও জেলা করতে না পারে, তবে প্রশাসন দায়িত্ব নিয়ে লিগ করে দেবে।’

এরপর যোগ করেন, ‘জেলাগুলো নিয়ে হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিক জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ হবে বঙ্গবন্ধুর নামে। প্রথমে জেলা লিগ, এরপর বঙ্গবন্ধু চ্যাম্পিয়নশিপ। এরপর হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিক শেখ কামাল অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপ। এর পরপরই হবে শেখ রাসেল অনূর্ধ্ব-১২ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ। জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলাগুলোর জন্য একটা পূর্ণাঙ্গ সূচির মধ্যে চলে আসবে। পরবর্তী ৩০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে এই সূচি পেয়ে যাবেন। মেয়েদেরও তিনটি ইভেন্ট হবে জেলাভিত্তিক।’ বাকি কমিটিগুলো দ্রুত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বাফুফে সভাপতি।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।