প্রথম ম্যাচেই মাহমুদউল্লাহ একাদশের বিপক্ষে জয় পেল নাজমুল একাদশ

ডাউন দ্য উইকেটে এসে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সোজাসুজি ছক্কা তৌহিদ হৃদয়ের। হৃদয় হরণ করা সেই ছক্কা সামনা সামনি বা ফেসবুক পেজে যারাই দেখেছেন, তারাই দিয়েছেন করতালি। সেই ছক্কায় হৃদয় থেমে থাকেননি। উইকেটের চারপাশে একাধিক বাউন্ডারি, সিঙ্গেল আর ডাবলসে খেলেছেন ৫২ রানের ঝকঝকে ইনিংস। তাকে সমর্থন করেছেন ইরফান শুক্কুর। দুইজনের ১২৭ বলে ১০৫ রানের জুটিতে বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের প্রথম ম্যাচে মাহমুদউল্লাহ একাদশকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত একাদশ।

মিরপুর শের-ই-বাংলায় টস হেরে আগে ব্যাটিং করে মাহমুদউল্লাহ একাদশ সবকটি উইকেট হারিয়ে তোলে মাত্র ১৯৬ রান। লক্ষ্য তাড়ায় হোঁচট খাওয়ার পর দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫৩ বল আগে ম্যাচ জিতে নেয় শান্তর দল। চাইলে ম্যাচটা শেষ করে আসতে পারতেন হৃদয়। জয়ের থেকে ১১ রান দূরে থাকতে আমিনুলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ইবাদতের হাতে ক্যাচ দেন। ওই এক বাজে শট বাদে হৃদয় যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, ততক্ষণ মুগ্ধতা ছড়িয়েছেন। ৬৭ বলে ২টি করে চার ছক্কায় সাজান ৫২ রানের ইনিংসটি।

সঙ্গী ইরফানও ছিলেন ধ্রুপদী। দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যাওয়া বাঁহাতি ব্যাটসম্যান করেন ৫৬ রান। ৭৮ বলে ছয় বাউন্ডারিতে ইরফান নিজের ইনিংসটি সাজান। অথচ একটা সময়ে লক্ষ্য প্রায় অসম্ভব মনে হচ্ছিল। সৌম্য, মুশফিকরা একে একে যখন সাজঘরে ফিরে যাচ্ছিলেন, মাহমুদউল্লাহর মুখে তখন চড়া হাসি। ৭৯ রান তুলতেই শান্তর একাদশের অর্ধেক ব্যাটসম্যান সাজঘরে। সাইফ ১৭ রানে প্রথম স্লিপে ইবাদতের বলে ক্যাচ দেন। সৌম্য ২১ রানে সীমানায় রাকিবুলের হাতে ক্যাচ দেন। শান্ত সেই রাকিবুলের বলে ব্যাকফুটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ২৮ রানে।

মুশফিক প্রায় এক হাত বাইরের বল টেনে নিজের স্টাম্পে নিয়ে আসেন ১ রানে। পরের গল্পটা পুরোটাই হৃদয় ও ইরফানের। শতরানের জুটিতে দলকে জয়ের স্বাদ দেন তারা। এর আগে দিনের আলোয় লিটন, নাঈম, মুমিনুলরাও রানের দেখা পাননি। মাহমুদউল্লাহ একাদশের টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান তারা। প্রায় জাতীয় দলের ব্যাটিং লাইনআপ। অথচ তিন ব্যাটসম্যান ২১ রানের ভেতরেই সাজঘরে। লিটন (১১) ও মুমিনুল (০) যথাক্রমে তাসকিন ও আল-আমিনের বলে প্লেড-অন হয়ে বোল্ড। নাঈম ৯ রানে সাজঘরের পথ ধরেন পয়েন্ট থেকে রিশাদ আহমেদের সরাসরি থ্রো থেকে। পাওয়ার প্লেতে দলের রান ৩ উইকেটে ৩৯।

দল যখন বিপদে তখন ব্যাটিংয়ে দুই সিনিয়র ইমরুল ও মাহমুদউল্লাহ। দলের হাল ধরলেন তারা। বিপদমুক্তও করলেন। কিন্তু দুইজনের কেউই পারেননি ইনিংস বড় করতে। চতুর্থ উইকেটে ইমরুল ও মাহমুদউল্লাহর রান ৭৩। ইমরুল ৫০ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৪০ রান করে ফেরেন নাঈম হাসানের বলে। ডানহাতি স্পিনারকে স্লগ করতে গিয়ে মিড উইকেটে সাইফ হাসানের হাতে ক্যাচ দেন ইমরুল।

মাহমুদউল্লাহ মন্থর ব্যাটিং করলেও কার্যকরী ভূমিকায় ছিলেন। গোছাল ইনিংসে রানের চাকা সচল রেখেছিলেন। কিন্তু ভুল এক শটে নিজের ইনিংসের ইতি টানেন দলপতি। পেসার মাকিদুল ইসলাম মুগ্ধকে উড়াতে গিয়ে ক্যাচ দেন ৫১ রানে। ৮২ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় মাহমুদউল্লাহ সাজান নিজের ইনিংস। কাজী নুরুল হাসান সোহান ও সাব্বির রহমান ভালো শুরু করেছিলেন। কিন্তু কেউই পারেননি দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে। শান্তর সরাসরি থ্রোতে সোহান আউট হন ১৪ রানে। মুগ্ধর স্লোয়ারে সাব্বির ফিরতি ক্যাচ দেন ২২ রানে। ফলো থ্রুতে লাফিয়ে দারুণ ক্যাচ ধরেন মুগ্ধ।

পরের ব্যাটসম্যানরা দলকে দুইশর ঘরে নিয়ে যেতে আপ্রাণ লড়াই চালিয়েছেন। আবু হায়দার রনি ১৪, রাকিবুল হাসান ১৫ রান করে অবদান রেখেছেন। কিন্তু ১৯৬ রানে শেষ মাহমুদউল্লাহদের ইনিংস। বোলিংয়ে দ্যুতি ছড়িয়েছেন তিন পেসার। তাসকিন আহমেদ, আল-আমিনের সঙ্গে তরুণ মাকিদুল ইসলাম মুগ্ধ নিয়েছেন দুইটি উইকেট। সাথে সৌম্য ও নাঈম পেয়েছেন একটি করে উইকেট।

ম্যাচসেরা নির্বাচিত হয়েছেন হৃদয়। সেরা বোলারের পুরস্কার পেয়েছেন তাসকিন। সেরা ব্যাটসম্যান হয়েছেন ইরফান এবং সেরা ফিল্ডার রিশাদ হোসেন।