নগোর্নো-কারাবাখ যুদ্ধে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর জড়িয়ে পড়ছে : উদ্বিগ্ন পুতিন ও রুহানি

নগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের জন্য আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। যেকোনো দেশের পক্ষ থেকে সামরিক পন্থা অবলম্বনের ঘোর বিরোধী ইরান। কারণ আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যকার যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ অঞ্চলের জনগণ।

প্রায় দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে দু’পক্ষেরই জানমালের ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় অধিবাসীরা সবচেয়ে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুদেশ যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং ওই যুদ্ধ ১৯৯৪ সালের মার্চ পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। প্রায় ছয় বছর ধরে চলা ওই যুদ্ধে ৩৫০০ ব্যক্তি নিহত এবং ৮ লাখের বেশি মানুষ শরণার্থীতে পরিণত হয়েছিল।

তখন থেকেই নাগোর্নো-কারাবাখ নিয়ে বিরোধ নিরসনের জন্য চেষ্টা চালানো হলেও তা ব্যর্থ হয়। দুই সপ্তাহ আগে যুদ্ধ বাধার আগ পর্যন্ত না যুদ্ধ না শান্তি এমন একটা পরিস্থিতি বিরাজ করছিল ওই অঞ্চলে। অবশ্য আন্তর্জাতিক কোন কোন কুচক্রী মহল ওই অঞ্চলে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে আঞ্চলিক শান্তি বিনষ্টের চেষ্টা করছে। পাশ্চাত্যের দেশগুলো মনে করে ওই অঞ্চলে অশান্তি জিইয়ে রাখা গেলে তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। কারাবাখ নিয়ে সংকট এরই আলোকে মূল্যায়ন করতে হবে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এ অঞ্চলের সঙ্কট নিরসনের উপায় খুঁজে বের করার জন্য ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন গত শনিবার টেলিফোন সংলাপে মিলিত হন। দুই নেতাই ওই অঞ্চলের চলমান সংঘাতে কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপের জড়িত হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইরানের প্রেসিডেন্ট কিছুদিন আগেও আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে টেলিফোন সংলাপে সংকট নিরসনের জন্য অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। পর্যবেক্ষকরা বলছেন অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যুদ্ধের মাধ্যমে সংকটের কোনো সুরাহা হবে না বরং পরিস্থিতি আরো জটিল হবে। তাই ইরান মনে করে এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আলোচনা শুরুর জন্য প্রথমেই যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।