আমি যেন খেতে পারি, এজন্য বাবা-মা রাতের খাবার খেত না : লুকাকু

রোমেলু লুকাকু এখন চাইলেই বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে একটা নামকরা হোলেট দিতে পারেন। কিন্তু এই লুকাকু ও তার ভাইয়ের খাবার জোগার করতে মা অ্যাডোলফিনকে দিনের পর দিন হোটেল বয়ের কাজ করতে হয়েছে। হোটেল থেকে যে খাবার দেয়া হতো তা নিজে না খেয়ে আদরের দুই সন্তানকে খাওয়াতেন তিনি।

লুকাকুর পেশাদার ফুটবলার বাবা অভাবের কারণে শখের টেলিভিশনটা বিক্রি করে দেন। বাসার বিদ্যুৎ বিল দিতে না পারায় দিনের পর দিন অন্ধকারে থাকতে হয়েছে লুকাকুদের।

নিজের প্রতিভা আর যোগ্যতা দিয়ে ২০০৯ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে বেলজিয়ামের অন্যতম সেরা ক্লাব আন্ডারলেখটে নাম লেখান লুকাকু। সেই দিনটির কথা স্মরণ করে লুকাকু বলেছেন, আমি ওই ক্লাবে খেলার জন্য মরিয়া ছিলাম। ক্লাবটিতে সুযোগ পাওয়ার পর আমার জীবনের অন্যতম একটা স্বপ্ন সত্যি হয়েছিল।

অভাব-অনটনে দিন কাটানো লুকাকুর ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা আর কঠোর পরিশ্রম তাকে বেলজিয়ামের সোনালি প্রজন্মের অংশ করেছে। তিনি দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন, খেলেছেন ইউরো। চেলসি, এভারটন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ঘুরে এখন খেলছেন ইতালির অন্যতম সেরা ক্লাব ইন্টার মিলানে।

লুকাকুর এ পর্যায়ে উঠে আসায় বড় অবদান তার মায়ের। লুকাকু বলেছেন, বাবা যখন খেলা ছেড়ে দেন তখন আমার বয়স মাত্র ছয় বছর। আমার মা তখন ডায়াবেটিসে ভুগতেন। সেই সময়ে বেশ কয়েক বছর আমাদের অনেক কষ্টে দিন কেটেছে।

তিনি আরও বলেছেন, বাবা মারা যাওয়ার সময়ে আমার মায়ের কাছে কোনো টাকা ছিল না। আমাদের দুই ভাইয়ের খাবারের জন্য মাকে দিনের পর দিন হোটেল বয়ের কাজ করতে হয়েছে। খেলা শেষ করে আমি ও আমার ভাই হোটেলে গিয়ে বসে থাকতাম। মা কখনই হোটেল থেকে দেয়া রাতের খাবার খেতেন না, যাতে আমরা ওই খাবার খেতে পারি। আমি আমার সবকিছু মা অ্যাডোলফিনকে উৎসর্গ করতে চাই। তিনি ছাড়া আজকের এ অবস্থানে আমি আসতে পারতাম না।

সূত্র: যুগান্তর।