আলুর বাজারেও চলছে অরাজকতা

সরকারের বেঁধে দেওয়া দামে আলু বিক্রি হচ্ছে না কোথাও। দাম বেঁধে দেওয়ার বিষয়টিও জানেন না খুচরা ব্যবসায়ীরা। পাইকারিতে অনেক ব্যবসায়ী জানলেও তা মানছেন না। তবে অনেক বিক্রেতা ক্রেতাসংকটের কারণে পরিচিতজনের কাছে এক-দুই টাকা কমে বিক্রি করছেন। তাঁরা বলছেন, সবজির দাম বেশি হওয়ায় কয়েক দিন আলু বিক্রি হয়েছে বেশি। এখন আলু বিক্রিও কমে এসেছে।

গতকাল রাজধানীর মালিবাগ, মুগদা, মানিকনগর, ভাটারার ঢালী কাঁচাবাজার, মমতাজ কাঁচাবাজারসহ প্রায় সব খুচরা বাজারে ৫০ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি হয়েছে। মিরপুর বড়বাগ, পীরেরবাগ, শাহ আলী মার্কেটসহ কয়েকটি বাজারে বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা কেজি। বিক্রেতারা বলছেন, সরকার যে দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সেটা তাঁদের জানা নেই। থাকলেও তাঁদের বাড়তি দামে কেনা আলু বিক্রিও করতে হবে বাড়তি দামেই।

গতকাল বেশির ভাগ খুচরা বাজারে যেসব আলু বিক্রি হয়েছে তা গত মঙ্গলবার বা তার আগের দিন সোমবার কেনা ছিল। ওই সময় খুচরা বিক্রেতারা ৪৩ থেকে ৪৬ টাকা কেজিতে বিক্রি করেন। গতকাল কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর শাহআলী পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হয়েছে ৪২ থেকে ৪৪ টাকা কেজি।

গতকাল ভাটারার ইসমাইল হোসেন মার্কেট, মমতাজ উদ্দিন কাঁচাবাজার ও ঢালী কাঁচাবাজারের ১০ জন সবজি বিক্রেতা জানান, দাম বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি তাঁরা জানেন না। মমতাজ বাজারের বিক্রেতা আজিজ বলেন, ‘আমরা ৫০ টাকায় বিক্রি করছি, যদি দাম বেঁধে দেয় তবে কেউ এসে বলে না কেন? সেই সঙ্গে আমাদের কেনা দামও দেখে যাক তারা।’ ইসমাইল মার্কেটের মদিনা সুপার শপের মালিক জাহিদ বলেন, গত সোমবার আমি সব শেষ আলু কিনেছি ৪৬ টাকা কেজিতে। এর মধ্যে প্রতি বস্তায় তিন কেজি পচা। আমি ৫০ টাকার নিচে কী করে বিক্রি করব। আগে হিমাগার ও পাইকারিতে দাম কমানো হোক।’

আলুর দামে অস্থিরতা ঠেকাতে গত ৭ অক্টোবর পণ্যটির দাম বিশ্লেষণ ও সর্বোচ্চ মূল্য নির্ধারণের সুপারিশসহ জেলা প্রশাসকদের কাছে চিঠি দেয় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। এরপর সর্বোচ্চ খুচরা দাম নির্ধারণ করা হয় ৩০ টাকা কেজি। পাইকারি পর্যায়ে ২৫ টাকা ও হিমাগার পর্যায়ে ২৩ টাকা বেঁধে দেওয়া হয়। দাম নির্ধারণ করে দেওয়া ওই চিঠির পরও পণ্যটির দাম কেজিতে অন্তত ১০ টাকা বেড়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, বাংলাদেশে গত মৌসুমে এক কোটি ৯ লাখ টন আলু উৎপাদন হয়েছে, যদিও বার্ষিক চাহিদা ৭৭ লাখ টন। সেই হিসাবে ৩১ লাখ টন আলু বিদেশে রপ্তানির জন্য প্রস্তুত থাকার কথা।

ব্যয় বিশ্লেষণ করে চিঠিতে বলা হয়, মৌসুমে হিমাগারে সংরক্ষণের সময় প্রতি কেজি আলুর মূল্য ছিল সর্বোচ্চ ১৪ টাকা। প্রতি কেজিতে হিমাগার ভাড়া বাবদ তিন টাকা ৬৬ পয়সা, বাছাইতে ৪৬ পয়সা, ওয়েট লস ৮৮ পয়সা, মূলধনের সুদ ও অন্যান্য খরচ বাবদ দুই টাকা ব্যয় হয়। অর্থাৎ এক কেজি আলুর সংরক্ষণসহ সর্বোচ্চ দাম পড়ে ২১ টাকা।

এদিকে দাম নিয়ন্ত্রণে গতকাল বিভিন্ন বাজারে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীকে জরিমানা করলেও আড়ত বা পাইকারি পর্যায়ে কারো কোনো শাস্তির খবর পাওয়া যায়নি।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক প্রণব কুমার প্রামাণিক ও মাগফুর রহমান। তাঁরা জানান, আজ কারওয়ান বাজারে পাইকারি প্রতি কেজি আলু ৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে অভিযানকালে অনেক পাইকারি আলু বিক্রেতাকে পাওয়া যায়নি। তাঁদের মূল্য তালিকায় ৪২ টাকা লেখা আছে। সম্ভবত অভিযানের খবর শুনে দোকান রেখে পালিয়ে গেছেন তাঁরা। অভিযানকালে বেশি দামে আলু-পেঁয়াজ বিক্রি করায় তিন ব্যবসায়ীকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

সূত্র: কালের কণ্ঠ।