ট্রাম্পের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির প্রধান অংশীদার বাংলাদেশ

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে প্রধান অংশীদার হিসাবে বিবেচনা করে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় সফররত দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই বিগান। সে কারণেই ঢাকায় সফরে এসেছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদধারী বিগান।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি একথা জানান। বিগান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসাবে দেখে এবং অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়তে সেই অংশীদারিত্ব বাড়াতে চায়। এই অঞ্চলে আমাদের কাজের ক্ষেত্রে কেন্দ্রভূমি হবে বাংলাদেশ।

রোহিঙ্গা সঙ্কটের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শক্তিগুলোতে জোরালো ভূমিকা নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের বিষয়ে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিকভাবে সব দেশের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করতে চাই আমি। এটা কেবল বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব নয়, বৈশ্বিক অগ্রাধিকার। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সব দেশের উচিত সঙ্কট সমধানে মিয়ানমার যাতে উদ্যোগী হয়, সেজন্য সমানভাবে স্পষ্টভাষী হওয়া।

মিয়ানমার সরকার ও দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে বিভিন্ন সময়ে বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন এ পর্যন্ত ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। মানবিক কারণে বাংলাদেশ এসব রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি করলেও সেই প্রত্যাবাসন আজও শুরু হয়নি। গতবছর দুই দফা প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেয়া হলেও রোহিঙ্গাদের ফেরানো যায়নি। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফেরানো নিয়ে টালবাহানা শুরু করেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বিগান বলেন, আমরা এটাকে রোহিঙ্গা সঙ্কটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখি না। বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আমরা একমত যে, রোহিঙ্গাদের অধিকার পুনরুদ্ধার ও ক্যাম্প থেকে তাদের ফিরে যাওয়ার ওপর ভিত্তি করে সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের তাৎক্ষণিক মানবিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি সঙ্কটের দীর্ঘস্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ দ্বিগুণ করতে হবে।

রোহিঙ্গা সঙ্কটে যুক্তরাষ্ট্র ‘সবসময় স্পষ্টভাষী’ ছিল এবং মিয়ানমারের ভেতরে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন বন্ধে এবং তাদের অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য রাজনৈতিক প্রভাবও ব্যবহার করেছে বলে জানান ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বোচ্চ এ প্রতিনিধি।

মোমেনের সঙ্গে আজকের (বৃহস্পতিবার) বৈঠক নিয়ে বিগান বলেন, এক্ষেত্রে কেবল তাদের (রোহিঙ্গা) জরুরি প্রয়োজন মেটানো নয়, পাশাপাশি বাংলাদেশের কাঁধ থেকে এ বোঝা নামানো জন্য, স্থায়ী সমাধানের জন্য বিরাজমান ইস্যুগুলোকে সমন্বয় করতে আমরা কীভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারি, তা আলোচনায় ছিল।

বঙ্গবন্ধুর খুনী রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানোর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, এটা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল দেখে থাকেন। তারা এ বিষয়টি রিভিউ করছেন বলে বিগান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে বিগান বলেন, করোনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোতে লোকবলের সঙ্কট রয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রেও এ রোগের প্রকোপ এ সমস্যার একটি কারণ। নীতিগতভাবে এখানে কোনো বাধা নেই। টিকার মাধ্যমে বড় রকমের চিকিৎসা শুরু হলে এ সমস্যা কেটে যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনদিনের সফরের দ্বিতীয় দিন সকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন বিগান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।

সূত্র: যুগান্তর।