তাসকিনের বিধ্বংসী বোলিংয়ে নাটকীয় জয় পেল নাজমুল একাদশ

তাসকিন আহমেদের বিধ্বংসী বোলিংয়ে অবিশ্বাস্যভাবে তামিম একাদশকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে নাজমুল একাদশ। নজমুল একাদশের দেওয়া ১৬৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে ১৫৬ রানে অলআউট হয় তামিম একাদশ। যদি এক সময় মনে হচ্ছিল হেসেখেলেই ম্যাচ জিতবে তামিম একাদশ। তবে শেষের দিকে তাসকিন আহমেদের দারুণ বোলিং এ ম্যাচে জয়লাভ করেছে নাজমুল একাদশ। সেইসাথে ফাইনালে উঠে গিয়েছে মাহমুদুল্লাহ একাদশ।

আজ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টসে জিতে ব্যাটিং করতে নেমে শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নাজমুল একাদশ। ইনিংসের তৃতীয় ওভারেই উইকেট তুলে নেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। এই দিনে ও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছেন ওপেনার ব্যাটসম্যান সৌম্য সরকার। ৭ বলে ৭ রান করে উইকেট কিপার এর হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন সৌম্য সরকার।

এরপর দলীয় ১৯ রানের মাথায় ১০ রান করে মেহেদী হাসানের বলে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তরুণ ওপেনার ব্যাটসম্যান পারভেজ ইমন। এই দিনে ব্যাট ব্যর্থ হয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। দলীয় ২৫ রানের মাথায় মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ৫ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন নাজমুল হোসেন শান্ত।

গত ম্যাচের মতো এই ম্যাচেও ব্যাট হাতে হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম এবং আফিফ হোসেন। তবে ১৫ ওভারে পর মাঠে বৃষ্টি শুরু হলে খেলা শুরু হয় বিকেল ৫ টা বেজে ২০ মিনিটে। বৃষ্টির কারণে খেলা অনুষ্ঠিত হবে ৪১ ওভারে।

বিরতি থেকে ফিরেই দেখেশুনে খেলতে থাকেন আফিফ হোসেন এবং মুশফিকুর রহিম। গত ম্যাচের মতো এই ম্যাচে ও হাফ সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তবে দলীয় ১১৫ রানের মাথায় ৭৪ বলে ৩ টি চার ১ টি ছক্কার সাহায্যে ৫১ রান করে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মুশফিকুর রহিম।

মুশফিকুর রহিমের আউটের পর বেশি সময় টিকতে পারেননি আফিফ হোসেন ও। ব্যক্তিগত ৪০ রান করে মেহেদি হাসানের বলে আউট হন আফিফ হোসেন। এরপরই বল হাতে জ্বলে ওঠেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন।

শেষের দিকে তৌহিদ হৃদয় এর ১৩ ইরফান শুক্কুর ১১ রানের সুবাদে ১৬৬ রান সংগ্রহ করে নাজমুল একাদশ। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ২৬ রানে পাঁচটি, মোস্তাফিজুর রহমান ৩৬ রানে তিনটি এবং মেহেদী হাসান ৩৪ রানে ২ উইকেট লাভ করেন উইকেট লাভ করেন।

বৃষ্টির আইনে ১৬৪ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ১০ রানের মাথায় উইকেট হারায় তামিম একাদশ। ৭ রান করে তাসকিন আহমেদের বলে প্যাভিলিয়নে ফেরেন আনামুল হক বিজয়। আনামুল হক বিজয় আউট হলেও দেখেশুনে খেলছেন তামিম একাদশের অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

দলীয় ৭৮ রানের মাথায় ২২ রান করে রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। টানা তিন ম্যাচে ব্যাট হাতে ব্যর্থ হবার পর অবশেষে হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন তিনি। তবে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়ার পর বেশিদূর এগোতে পারেননি তামিম ইকবাল। দলের ১০১ রানের মাথায় ৬ টিচার এর সাহায্যে ৫৭ রান করে আবু জাহেদ বাহির বলে আউট হন তামিম ইকবাল।

তামিম ইকবালের আউটের পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে তামিম একাদশ। তামিমের বিদায়ের পর ৩৩ বলে ৬ রান করে নাসুম আহমেদ বলে আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ইয়াসির আলী। এরপর ৩ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ।

এই দিন ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছে মোসাদ্দেক হোসেন। তাসকিন আহমেদ এর দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে উইকেট কিপার এর হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ৬ রান করেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন মোসাদ্দেক। এ পরের ওভারেই তুলে নেন মেহেদী হাসানের উইকেট। ৪ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ১ রান করা আকবর আলী কে আউট করেন তাসকিন।

শেষে ১২ বলে জয়ের জন্য তামিম একাদশের প্রয়োজন ছিল ১৭ রানের। তবে সেটি নিতে ব্যর্থ হয়েছেন মোহাম্মদ মিথুন এবং মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন। ৩১ বলে ২৯ রান করে আলামিন হোসেনের বলে উঠে প্যাভিলিয়নে ফেরেন মোহাম্মদ মিঠুন। শেষ উইকেট তুলেন নেন সৌম্য সরকার।

৮ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট লাভ করেছেন তাসকিন আহমেদ। এছাড়াও আবু জাহেদ, আল-আমিন হোসেন, সৌম্য সরকার, নাসুম আহমেদ একটি করে উইকেট লাভ করেন।