আর্মেনীয় বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করল আজারবাইজানের সেনারা

সম্প্রতি আর্মেনিয়ার সামরিক বাহিনীর ওপর হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন আজারবাইজানের সেনাবাহিনী। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বাকুর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে আজেরি সংবাদমাধ্যম আজভিশন এ খবর জানিয়েছে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমটির ওয়েবসাইটে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, আর্মেনিয়ার সামরিক যান ও সেনা থাকার কয়েকটি ঘাঁটিতে হামলা চালানো হচ্ছে। এতে সামরিক সরঞ্জামাদিসহ বেশ কয়েকজন আর্মেনীয় সেনা হতাহত হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে বিরোধীয় নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান নতুন করে যুদ্ধে জড়ায়।পরবর্তীতে ১০ অক্টোবর রাশিয়ার মধ্যস্থতায় আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের মধ্যে ম্যারথন আলোচনা হয়।

এর আগে কারাবাখের জাবরাইল প্রদেশে আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর একের পর এক আক্রমণের মুখে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পালিয়েছে আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনীর ৫৫৬ রেজিমেন্ট।এছাড়া মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত থেকে আঘদারা, ফুজুলি, জাবরাইল এবং গুবাদলি এলাকায় সম্মুখ যুদ্ধ হয়। এসব এলাকায় ব্যাপক আকারে ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে আর্মেনীয় বাহিনী। তাদের বেশ কিছু গোলাবারুদ ও বাহিনীর সদস্যদের প্রাণহানি ঘটে।

এর আগে মঙ্গলবার আর্মেনিয়ার সেনাবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে দফায় দফায় হামলা চালায় আজারবাইজান সেনাবাহিনী। তাদের দাবি আর্মেনিয়ার হামলার প্রতিবাদেই হামলা চালিয়েছে তারা। এতে বহু হতাহতের দাবিও করা হয়। আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, আমরা লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছি। বিজয় আমাদের হবেই।

এদিন জাতির উদ্দেশ্য বক্তব্য রাখেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়াভ। বলেন, তার দেশ নিজ ভূমি উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন করে আর্মেনিয়ার অধীনে থাকা বেশ কয়েকটি অঞ্চল দখলমুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

বলেন, শত্রুরা আমাদের ভূমি ৩০ বছর ধরে দখলে রেখেছে। আমরা সেগুলো উদ্ধারে লড়াই করছি। এ যুদ্ধে বিজয় আমাদেরই হবে। প্রতিদিনই আমরা নতুন নতুন অঞ্চল দখলমুক্ত করছি। শত্রুরা পিছিয়ে যাচ্ছে।

বিতর্কিত অঞ্চলটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধে একাধিকবার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর মধ্যস্থতায় দুটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হলেও লড়াই অব্যাহত রেখেছে দুই দেশই। অবশেষে চলমান লড়াই অবসানে দেশ দুটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও। আগামী শুক্রবার ওয়াশিংটনে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্র: সময় নিউজ।