মাঠে ঠকছেন কৃষক আর বাজারে ভোক্তারা

মাঠে ঠকছেন কৃষক আর বাজারে ভোক্তারা। তবে অধিক মুনাফা পাচ্ছে, মধ্যস্বত্বভোগীরা। বাজারে ৬০-৭০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি। গত দুই মাস ধরে রাজধানীর বাজারে দামের এমন উত্তাপ। বাজার অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সিন্ডিকেটের হাতে, ভোক্তা ও কৃষক দু’পক্ষই জিম্মি। নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দাবি, দাম অচিরেই ভোক্তার নাগালে আসবে।

কৃষক রোদ-পোড়া, বৃষ্টি ভেজা, তামাটে শরীর। সন্তানের মতো, যত্ন করে ফসল ফলান। প্রকৃতি সদয় হলে, ফুল-ফসল-সবজিতে ভরে যায়, মাঠ। নরসিংদিতে, এবারো সবজির ফলন ভালোই হয়েছে। মাচানের লাউগুলো দিন বদলের স্বপ্ন নিয়ে ঝুলে আছে। বেগুনের ফলনও বেশ ভালো।

কিন্তু খুচরা বাজারে দাম আর কৃষকের পাওয়া দামের মধ্যে অনেক ফারাক। অদৃশ্য সিন্ডিকেটের প্রান্তিক পর্যায়ের সদস্যরা হলেন, স্থানীয় পাইকার। এই বাজারেও তাদের উপস্থিতি আছে। নিজেদের উৎপাদিত সবজির এই স্থানীয় বাজারেও পাইকারদের কাছে ঠকছেন কৃষকরা। তবে স্থানীয় পাইকারদের দাবি, তাদের চেয়ে লাভ বেশি হয়, খুচরা ব্যবসায়ীদের।

যশোর কিংবা পাবনার পাইকারি বাজারে যে শিমের দাম, কেজিতে ৫০টাকার মধ্যে, রাজধানীতে সেটাই ১২০-১৪০ টাকা। একইভাবে ৪৫ থেকে ৬০ টাকার বেগুন, বাজার ভেদে ৭০-১১০ টাকা। পরিসংখ্যান বলছে, প্রায় সব ধরণের সবজিতে, ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত দামের পার্থক্য তৈরি করছে, মধ্যসত্ত্বভোগীরা।

রাজধানীর বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, এলাকা ভেদে ঢাকার মধ্যে, দামের বেশ উঠা-নামা। কারওয়ানবাজারের সবজির সাথে হাতিরপুল, মিরপুর আর গুলশানের বাজারে দামের পার্থক্য কেজিতে ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ এখানেও অদৃশ্য সিন্ডিকেটের সদস্যরা সক্রিয়। আর ভোক্তারা কোনঠাসা।

এই বাস্তবতায়, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলছেন, গুটিকতক অসাধু ব্যবসায়ী এই কৃত্রিম সংকটের কারণ। তবে সবকিছুর পরও ভোক্তারা মনে করছেন, তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে, অদৃশ্য সিন্ডিকেটকে ভেঙে দিতে, সরকারের আরো কঠোর হওয়া উচিত।

সূত্র: নিউজ২৪।