করোনা: এশিয়ার দ্বিতীয় ক্ষতিগ্রস্ত দেশ বাংলাদেশ

এশিয়া মহাদেশে চলমান মহামারি করোনা ভাইরাস সবচেয়ে বেশি যেসব দেশে আঘাত করেছে তার মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। যদিও অক্টোবর মাসে এসে সংক্রমিতের সংখ্যা কমেছে শতকরা ৪০ ভাগের মতো। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স।

রয়টার্স তাদের প্রকাশিত খবরে জানিয়েছে, বাংলাদেশে করোনা মহামারির গতি ধীর হয়ে এসেছে। চীনের পরে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ তৈরি পোশাকের উৎপাদনকারী এই দেশটি আবার মারাত্মক মন্দার মুখোমুখি। কারণ, বাংলাদেশের মূল বাজার ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয়দফায় করোনা সংক্রমণের ঢেউ শুরু হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ করোনা নিয়ন্ত্রণে অগ্রগতি করলেও তৈরি পোশাকের আন্তর্জাতিক খুচরা ক্রেতারা অর্ডার বিলম্বিত করছে অথবা দাম কম দাবি করছে। ফলে গার্মেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের ছাঁটাই করতে বাধ্য হচ্ছেন। কমপক্ষে ১০ লাখ গার্মেন্ট শ্রমিককে কাজ থেকে বাইরে রাখা হয়েছে, না হয় লেঅফ ঘোষণা করা হয়েছে।

শনিবার করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ছাড়িয়ে গেছে এশিয়ায়। রয়টার্সের হিসাব মতে, ভারতে ধীরগতি ও দ্রুত সংক্রমণের হার কমে যাওয়া সত্ত্বেও এ অঞ্চলে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশ্বে করোনা ভাইরাসে যে ৪ কোটি ২১ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন তার চার ভাগের প্রায় এক ভাগই এশিয়ার। এখানে মারা গেছেন কমপক্ষে এক লাখ ৬৩ হাজার। সারাবিশ্বে করোনায় যে পরিমাণ মানুষ মারা গেছেন তার মধ্যে শতকরা ১৪ ভাগই এশিয়ার।

দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ভারত। বিশ্বে যে পরিমাণ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তার শতকরা প্রায় ২১ ভাগই ভারতের। আর মৃতের শতকরা ১২ জন ভারতীয়।

বিপরীত চিত্র চীন ও নিউজিল্যান্ডে। সেখানে করোনার বিস্তার দ্রুততর হতে পারেনি। রয়টার্সের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই বিশ্বে করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ভারত। ভারতে দিনে গড়ে কমপক্ষে ৫৭ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এশিয়ার তৃতীয় বৃহৎ অর্থনীতির এই দেশে প্রতি ১০ হাজার মানুষের মধ্যে আক্রান্তের শতকরা হার ৫৮। ভারতে গড়ে প্রতিদিন করোনায় মারা যাচ্ছেন ৭৬৪ জন। এ অবস্থা বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ। বিশ্বে প্রতি ১৩টি মৃত্যুর মধ্যে ভারতে একটি।

ভারতে প্রায় ৭৮ লাখ মানুষ সংক্রমিত হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই তারা অবস্থান করছে। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৮৫ লাখ মানুষ। ভারতে মারা গেছেন প্রায় এক লাখ ১৮ হাজার মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে এ সংখ্যা ২ লাখ ২৪ হাজার ১২৮। তবে যুক্তরাষ্ট্রে সম্প্রতি করোনা সংক্রমণ আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় গত সপ্তাহে করোনায় ক্ষয়ক্ষতির দিক দিয়ে ফিলিপাইনকে ছাড়িয়ে গেছে ইন্দোনেশিয়া। সেখানে গত সপ্তাহে কমপক্ষে ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এদিকে এক মাসের মধ্যে গত সপ্তাহে ফিলিপাইনে সবচেয়ে বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে ফিলিপাইন। ফলে রাজধানী ম্যানিলায় আগামী ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

এশিয়ায় এমন ফল দেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞরা ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকাকে এশিয়ার এসব দেশের উদাহরণ কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র: সময় নিউজ।