দালালের খপ্পরে নিঃস্ব হাজারো বাংলাদেশি ঘুরছে বিদেশের বনে জঙ্গলে

মালয়েশিয়া, লিবিয়া অথবা বসনিয়া। লোকালয়, জঙ্গল অথবা কারাগার-সবখানেই ঝুলছে এখন প্রতারিত বাংলাদেশীদের ভাগ্য। ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থামেনি মানব পাচার। দালালের খপ্পরে পড়ে সর্বোস্ব হারিয়ে পথে-পথে ঘুরছে মানুষ।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বলছে, মানবপাচারে দেশীয় চক্রের পাশাপাশি বিদেশী চক্র জড়িত থাকায় অপরাধীদের ধরতে চ্যালেঞ্জে পড়ছেন তারা। প্রতারণার মিছিল ঠেকাতে সচেতনার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

কখনো রোদে পুড়ে, কখনো বৃষ্টিতে ভিজে, আবারো কখনো হাড় কাঁপানো শীত উপেক্ষা করে গত কয়েকমাস ধরে বসনিয়ার জঙ্গলে দিন কাটছে কয়েশ বাংলাদেশীর। তারা সবাই কোন না কোনভাবে দালালের খপ্পরে পড়ে ইউরোপে যাওয়ার আশায় ঘর ছেড়েছেন। এর পেছনে খরচ করেছেন ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা।

মানব পাচারের শিকার হয়ে সমুদ্রে সলিল সমাধী, জঙ্গলে গণ কবর অথবা বেঁচে থাকলে মানবেতর জীবন- বাংলাদেশীদের এই পরিণতি নতুন কিছু না। তারপরও কেন এই মরণযাত্রা? অভিবাসন বিশ্লেষক আসিফ মুনীর বলছেন, তাদেরকে নানা ভাবে বুঝিয়ে ভূমধ্যসাগর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারণ তাদের যে কোন দেশে তুলে দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক ও সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলছেন, কয়েকটা গ্রুপের কাছে হাত বদল হয় এসব অভিবাসীরা। এমনও হয় যে ৭-৮ টা গ্রুপের মাধ্যমে তার বিভিন্ন দেশে পৌঁছে আবার কোন ক্ষেত্রে আটকা পড়ে বিভিন্ন জায়গায়।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ দপ্তর- ইউনিডক এর ২০১৮ সালের মানব পাচার বিষয়ক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম ও দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৫ শতাংশ নাগরিককে পাওয়া গেছে দক্ষিণ এশিয়ার। মানব পাচারের শিকার এই লোকগুলো মূলত ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের নাগরিক। বিশ্বের ৪০টি দেশে পাচার হচ্ছে এই অঞ্চলের মানুষ।

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা – আইওএম বলছে, ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথটি হচ্ছে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই পথ দিয়ে ইতালি যাওয়ার সময় প্রতি ৫০ জনে ১ জন মারা গেছে। আর গেল বছরের জানুয়ারি থেকে মে মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত অন্তত ১৭ হাজার অবৈধ অভিবাসী ভূমধ্যসাগর দিয়ে ইউরোপে ঢুকে পড়েছে। এ সময়ে সাগরে হারিয়ে গেছে অন্তত ৪৪৩ জন।

মানবপাচারে দেশীয় চক্রের পাশাপাশি বিদেশী চক্র জড়িত থাকায় অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসাকে চ্যালেঞ্জিং বলে মনে করছে সিআইডি প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান। মানবপাচার ঠেকাতে সংশ্লিস্ট সবগুলো দেশের সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি সচেতনতা অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র: নিউজ২৪।