কোটি কোটি মুসলিমের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানার অধিকার কারও নেই : পাকিস্তান

সংগৃহীত ছবি

পাকিস্তানে নিযুক্ত ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে তলব করছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসলামকে কটাক্ষ করে অবিবেচকের মতো মন্তব্য করে সম্প্রতি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মুসলিমদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে তলব করে পাকিস্তান।

পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি সোমবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান। বিবৃতিতে বলা হয়, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কাণ্ডজ্ঞানহীন মন্তব্যে বিশ্বে বিভিন্ন দেশের মতো পাকিস্তানেও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি আরো উল্লেখ করেন, আগামী বছরের ১৫ মার্চে অনুষ্ঠিতব্য ওআইসির বার্ষিক সভায় ইসলাম ফোবিয়া নিয়ে আলোচনা করার প্রস্তাব করেছে পাকিস্তান। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানার অধিকার কারও নেই। তিনি জাতিসঙ্ঘ এ ধরনের ঘৃণাবিদ্বেষ ছড়ানোর বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের প্রথম দিকে মহানবীকে (সা.) নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র ছাপানোকে ব্যক্তিস্বাধীনতা উল্লেখ করে এবং এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় ফ্রান্সের মুসলমানদের বিচ্ছিন্নতাবাদী দাবি করে এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুমকি দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

এদিকে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোর মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফরাসি পণ্য বয়কট শুরু হয়েছে। কুয়েত, জর্ডান এবং কাতারের কিছু কিছু দোকান থেকে ফরাসি পণ্য সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এছাড়া লিবিয়া, সিরিয়া এবং গাজা উপত্যকায় বিক্ষোভও দেখা গিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে এই বয়কট মুসলিম বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়ছে। এরই জের ধরে ফরাসি পণ্য বর্জন না করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। এর আগে ম্যাক্রো মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখানোর পক্ষে সাফাই দিয়েছিলেন।

ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলে যে, উগ্র সংখ্যালঘুদের পক্ষ থেকে এই বয়কটের ‘ভিত্তিহীন’ ডাক দেয়া হয়েছে। শ্রেণীকক্ষে হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর কার্টুন দেখানোর পর এক শিক্ষককে হত্যার ঘটনায় ম্যাক্রোর মন্তব্যের পর এই প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

প্রেসিডেন্ট বলেন যে, স্যামুয়েল পাটি নামের ওই “শিক্ষক খুন হয়েছিলেন কারণ ইসলামপন্থীরা আমাদের ভবিষ্যৎ চায়”, কিন্তু ফ্রান্স “আমাদের কার্টুন ছাড়বে না”।

হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর চিত্রাঙ্কন মুসলিমদের জন্য গুরুতর আপত্তির জায়গা হয়ে ওঠার কারণ হচ্ছে, ইসলামী ঐতিহ্য অনুযায়ী মুহাম্মদ (সা.) এবং আল্লাহর প্রতিকৃতি তৈরি কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে।

কিন্তু ফ্রান্সে জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম অংশ হচ্ছে ধর্মনিরপেক্ষতা বা “লেইসিতে”। কোন নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের অনুভূতির রক্ষার জন্য বাক-স্বাধীনতা কমিয়ে আনা হলে তা জাতীয় ঐক্য কমিয়ে আনবে বলে জানানো হয়।

রোববার, ম্যাক্রো এক টুইটে ফরাসি মূল্যবোধের প্রতি পক্ষে তিনি বলেন, “আমরা কখনোই এটা বিসর্জন দেবো না।”

তুরস্ক এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক নেতারা ম্যাক্রোর প্রতি ক্ষোভ জানিয়ে অভিযোগ তুলেছেন যে তিনি “বিশ্বাসের স্বাধীনতা” কে কদর করছেন না এবং ফ্রান্সের লাখ লাখ মুসলিমদের কোণঠাসা করছেন।

রোববার, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেন, ইসলামের প্রতি ম্যাক্রোর দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে তার “মানসিক চিকিৎসা করানো দরকার।” শনিবার একই মন্তব্যের জন্য তুরস্কে থাকা ফরাসি রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছিল দেশটি।

রোববার জর্ডান, কাতার ও কুয়েতের অনেক দোকানের তাক থেকে সরিয়ে নেয়া হয় ফরাসি পণ্য। ফ্রান্সে তৈরি হওয়া চুল এবং সৌন্দর্য পণ্য ডিসপ্লে-তে রাখা হয়নি। কুয়েতে প্রধান একটি রিটেইল ইউনিয়ন ফরাসি পণ্য বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।

বেসরকারি ইউনিয়ন অব কনজ্যুমার কো-অপারেটিভ সোসাইটি বলে, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে “বার বার অসম্মান” করার কারণে তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে ফরাসি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই সিদ্ধান্তের কথা স্বীকার করে লিখেছে, “বয়কটের এই ডাক ভিত্তিহীন এবং অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। সেই সাথে আমাদের দেশের বিরুদ্ধে উগ্র সংখ্যালঘুদের পরিচালিত সব হামলাও বন্ধ করা উচিত।”

বিভিন্ন আরব দেশ যেমন সৌদি আরবে অনলাইনে এ ধরণের বয়কটের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

সূত্র: নয়া দিগন্ত।