হাজি সেলিমের পরিবারের অবৈধ সম্পদের খোঁজে দুদক

সংসদ সদস্য হাজি সেলিম ও ইরফানের সম্পদের প্রাথমিক তথ্য নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন- দুদক। বুধবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য জানায় কমিশনার মোজাম্মেল হক খান।

তিনি বলেন, সংসদ সদস্য হাজি সেলিম ও তার ছেলে ইরফান সেলিমের সম্পদের প্রাথমিক তথ্য নেয়া হচ্ছে। এসব যদি দুদক আইনে তফসিলভুক্ত হয় তাহলে তা নিয়ে অনুসন্ধান করা হবে। তিনি বলেন, অবৈধ সম্পদের বিষয়গুলো যদি দুদকের শিডিউলের সাথে সম্পর্কিত হয় এবং শিডিউলভুক্ত অপরাধের শামিল হয় তাহলে আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব এবং অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মোজাম্মেল হক খান বলেন, বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাদের দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ আছে কিনা খোঁজ করছে দুদকের গোয়েন্দারা। কমিশনার মোজাম্মেল বলেন, সরকারের জায়গা বা সম্পত্তি হোক, যদি দখল হয় তাহলে দুদক আইনের আওতাভুক্ত হলে সেই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ইরফান সেলিম ও তার সহযোগী জাহিদের বিরুদ্ধে চকবাজার থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে ৪টি মামলা দায়ের করে র‍্যাব। একই মামলায় সোমবার হাজি সেলিমের গাড়িচালক মিজানুর রহমানের একদিন ও মঙ্গলবার ইরফানের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা এবি সিদ্দিকী দীপুর তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। ইরফানকে নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধ এবং অসদাচরণের অভিযোগে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত রোববার রাতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমেদ খানকে মারধরের জেরে পরদিন সোমবার পুরান ঢাকার বড় কাটরায় ইরফানের বাবা সরকারদলীয় সাংসদ হাজি সেলিমের বাড়িতে দিনভর অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদক রাখার দায়ে ইরফানকে এক বছর কারাদণ্ড ও অবৈধ ওয়াকিটকি রাখার কারণে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন। ইরফানের দেহরক্ষী জাহিদকে ওয়াকিটকি বহন করার দায়ে ছয় মাস সাজা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

অভিযানে ওই বাড়ি থেকে অস্ত্র, ইয়াবা, ৩৮টি ওয়াকিটকি ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় ইরফান ও জাহিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে আলাদা মামলা হয়েছে। রোববার রাতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তা ওয়াসিফ আহমেদ খান স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটরসাইকেলকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় সংসদ সদস্যের স্টিকারযুক্ত একটি গাড়ি। ওয়াসিফ নিজের পরিচয় দিলেও গাড়ি থেকে নেমে একজন গালিগালাজ করে হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যান।

এরপর গাড়িটি কলাবাগান বাসস্ট্যান্ড সিগন্যালে দাঁড়ালে ওয়াসিফ মোটরসাইকেল নিয়ে সেখানে গিয়ে গাড়িটির জানালায় নক করেন। তখন গাড়ি থেকে লোকজন নেমে ওয়াসিফকে মারধর করে রক্তাক্ত করেন। তার একটি দাঁত পড়ে যায়। ওই গাড়িতে হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান ও তার লোকজন ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে পরদিন সকালে ধানমন্ডি থানায় মামলা করেন ওয়াসিফ। মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে চার আসামির বিরুদ্ধে এই মামলা হয়। পরে চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট নিউজ।