দূর দেশ ঘুরে আসছে পাশের দেশের পেঁয়াজ

করোনা সংক্রমণের পর টেকনাফ স্থল বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি অনেকটা বন্ধ। এই বন্দর দিয়ে দু-তিন দিনে আমদানি করা পেঁয়াজ দেশে পৌঁছায়। সেখানে এখন সিঙ্গাপুর ঘুরে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে মিয়ানমারের পেঁয়াজ আসছে অন্তত ২৫ দিনে। এতে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পেঁয়াজের গুনগতমান। শীতাতপ কন্টেইনারে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণে পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বলে জানান আমদানিকারক ও আড়তদাররা।

চাক্তাই আড়তদার ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আহসান খালেদ পূর্বকোণকে বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে সরাসরি পেঁয়াজ আসছে না। সিঙ্গাপুর বন্দর ঘুরে চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর দিয়ে দেশে আসছে মিয়ানমারের পেঁয়াজ। ২৫ দিনের মতো শীতাতপ কন্টেইনারে থাকার কারণে পেঁয়াজের গুণগতমান নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে পেঁয়াজের বীজ গজে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। লোকসান গুনছেন আমদানিকারকেরা।’

টেকনাফ সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি দিদার হোসেন পূর্বকোণকে বলেন, ‘আকিয়াব থেকে একদিন, রেঙ্গুন থেকে চারদিন সময় লাগে। মিয়ানমারের লকডাউনের পর থেকে টেকনাফ স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরনের পণ্য আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা।’ চট্টগ্রামে পেঁয়াজের বড় মোকাম চাক্তাই-খাতুনগঞ্জে গতকাল দেশি জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭৫-৭৭ টাকা, চায়না পেঁয়াজ মানভেদে ২০-৪০ টাকা, মিশর ও তুরস্কের পেঁয়াজ ৪০-৪৮ টাকা, পাকিস্তানি পেঁয়াজ ৪৫-৪৭ টাকা, মিয়ানমারের ভালোমানের পেঁয়াজ ৬০-৬৫ টাকা। মধ্যমানের পেঁয়াজ ৫০-৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও নিম্নমানের পেঁয়াজও কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

খাতুনগঞ্জের আড়তদার মো. জাবেদ ইকবাল বলেন, ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের পর বিকল্প দেশ থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ কাছাকাছি সময়ে দেশে ঢুকেছে। এতে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কিছুটা কম রয়েছে।’ তিনি বলেন, আলো-বাতাসহীন অবস্থা শীতাতপ কন্টেইনারে আসার কারণে পেঁয়াজের গুণগতমান অনেকটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তিন-চার দিনের বেশি রাখা যাচ্ছে না। পচে যাচ্ছে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এ ঘোষণার পর দেশীয় বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে হুলস্থুল শুরু হয়। আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা জানান, মিয়ানমার, চায়না, পাকিস্তান, মিশর, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি বেড়েছে। পাইপ লাইনে রয়েছে প্রচুর পেঁয়াজ। আমদানি বাড়ায় দামও কমতে শুরু করেছে পাইকারি বাজারে।

আমদানিকারকেরা জানান, কোল্ডস্টোর (হিমাগার) এবং শীতাতপ কন্টেইনারে আমদানি করা পেঁয়াজ অতিরিক্ত ঠা-ায় ডগা গজিয়ে গেছে। মান খারাপ হয়ে যাওয়ার লোকসানের মুখে পড়েছে আমদানিকারকেরা। টেকনাফ বন্দর দিয়ে দু-তিন দিনের মধ্যে মিয়ানমার থেকে পেঁয়াজ আমদানি করা যায়। কিন্তু সমুদ্রপথে মিয়ানমার থেকে সিঙ্গাপুর হয়ে দেশে আসে। এতে অন্তত ২৫ দিন সময় লেগে যায়। অন্য দেশ থেকে আমদানিতে ২০-২২ দিন সময় লাগে। এজন্য পেঁয়াজের মান কিছুটা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। আমদানি মূল্য থেকে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

সূত্র: পূর্বকোণ।