ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের দাবি, শান্তিনগরে শেষ ঘেরাও

ছবি: সংগৃহীত

মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের প্রতিবাদে ঢাকায় হেফাজতে ইসলামের ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পুলিশের বাধায় শান্তিনগর মোড়ে গিয়ে শেষ হয়েছে। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ফ্রান্সের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নসহ বেশকিছু দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের নেতারা। সোমবার সকাল থেকেই রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে জড়ো হতে থাকেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা। ফ্রান্স দূতাবাস ঘেরাও করতেই সেখানে সমবেত হন তারা।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সমাবেশ শেষ করে বায়তুল মোকাররমের উত্তরগেট থেকে হেফাজত কর্মীরা ফ্রান্স দূতাবাসের দিকে রওনা হন। পল্টন, নাইটিঙ্গেল মোড়, কাকরাইল হয়ে দুপুর পৌনে ১টার দিকে শান্তিনগর মোড়ে এসে তারা পুলিশের ব্যারিকেডে আটকে যান।

পরে সেখানে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করেন বিক্ষোভকারীরা। হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী এবং ঢাকা মহানগর সভাপতি নূর হোসাইন কাসেমী একটি মিনি ট্রাকে চড়ে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তৃতা দেন।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে ফ্রান্সের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক চ্ছিন্ন করা, বাংলাদেশে ফ্রান্সের দূতাবাস বন্ধ করা, ফরাসি পণ্য বর্জন এবং সংসদে নিন্দা প্রস্তাব পাস করার দাবি জানান জুনাইদ বাবুনগরী।

তাদের এই কর্মসূচির কারণে বায়তুল মোকাররম, গুলিস্তান, পল্টন, প্রেসক্লাব, কাকরাইল ও শন্তিনগর হয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় তিন ঘণ্টার বেশি সময় ভোগান্তি পোহাতে হয় চলতি পথের যাত্রীদের। এদিকে যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলতা এড়াতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

হজরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশকে কেন্দ্র করে বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে বিক্ষোভ চলছে। বাংলাদেশেও ধর্মভিত্তিক সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি ফ্রান্সের পণ্য বয়কটের আহ্বান জানিয়েছে।

এর অংশ হিসেবে গত শুক্রবার জুমার পর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সামনে ‘সম্মিলিত ইসলামি দলগুলো’ ব্যানারে এক সমাবেশ থেকে ২ নভেম্বর ফ্রান্সের দূতাবাস ঘেরাওয়ের কর্মসূচি ঘোষণা করেন হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগর সভাপতি নূর হোসাইন কাসেমী।

সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট।