যুক্তরাষ্ট্রে চূড়ান্ত ভোট শুরু, হাড্ডাহাড্ডি লড়াই

শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ পর্ব। স্থানীয় সময় ঠিক সকাল ৫টায় ভারমন্টে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডিক্সভিলে নচে প্রথম জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন। ভোটের আগে সবশেষ জনমত জরিপে বাইডেনের চেয়ে পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প। তবে ‘ব্যাটলগ্রাউন্ড’ হিসেবে বিবেচিত রাজ্যগুলোয় দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যবধান অল্প।

ম্যারাথন প্রচারের শেষ দিন চার রাজ্যে পাঁচটি নির্বাচনী সভা করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। প্রচারের সমাপ্তি টেনে তিনি ফিরেছেন হোয়াইট হাউজে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জো বাইডেন ফিরেছেন পেনসিলভেনিয়ার স্কারানটনে, তার শৈশবের শহরে। প্রথম প্রহরে ভোট হওয়া দুই কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এর একটিতে সব ভোট পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। আর অন্যটিতে বেশি ভোট পেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডিক্সভিলে নচে প্রথম জয় পান জো বাইডেন। আর মিসফিল্ডে এগিয়ে যান ট্রাম্প।

সিএনএন জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তের কাছাকাছি নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্যের ডিক্সভিল নচ শহরের একটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষ হয় রাতের প্রথম প্রহরেই। কেন্দ্রে পাঁচটি ভোট পড়েছে। এর সব কটি ভোট পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন। ওই এলাকার ঐতিহ্য অনুযায়ী ভোটাররা সোমবার মধ্য রাতে ভোট দিতে ব্যালসামস রিসোর্টে যান। মঙ্গলবার রাতের প্রথম প্রহরে একটি কক্ষে গিয়ে প্রত্যেকে ভোট দেন।

সিএনএন জানায়, ডিক্সভিল নচ মাত্র ১২ জন বাসিন্দার একটি ছোট্ট শহর। মঙ্গলবার রাত ১২টা ১৫ মিনিটের মধ্যেই কেন্দ্রের ফলাফল জানিয়ে দেয়া হয়। এই কেন্দ্রে পাঁচটি ভোট পড়েছিল। পাঁচটি ভোটই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন পেয়েছেন। এছাড়া মিসফিল্ড নামের একটি এলাকায় একটি কেন্দ্রে একইভাবে ২১টি ভোট পড়েছে। এ কেন্দ্রে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেয়েছেন ১৬ ভোট এবং বাইডেন পেয়েছেন ৫ ভোট।

শেষ কয়েক ঘণ্টার প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জো বাইডেন। ব্যাটেলগ্রাউন্ড নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া, উইকনসিন ও মিশিগানে সমাবেশ করেছেন ট্রাম্প। আর চূড়ান্ত সময়ে প্রচারণায় পেনসিলভানিয়া এবং ওহিওকে বেছে নিয়েছেন বাইডেন। জয়-পরাজয় নির্ধারণে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটেলগ্রাউন্ড রাজ্য নর্থ ক্যারোলাইনা, পেনসিলভানিয়া, উইকনসিন ও মিশিগানে প্রচারণা চালাচ্ছেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। একইসাথে নির্বাচনি কারচুপি রোধে আবারো আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

পেনসিলভানিয়া এবং ওহিওতে চূড়ান্ত প্রচারে গিয়ে করোনা মোকাবিলায় ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে আবারো ট্রাম্পের সমালোচনায় মুখর হয়েছেন বাইডেন। এসময় ট্রাম্পকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পোষ্য বলে কটাক্ষও করেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। বাইডেনের সমর্থনে পিটসবার্গের সমাবেশে যোগ দেন লেডি গাগা। আর ফিলাডেলফিয়ায়, বাইডেনের রানিং মেট কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দেন সঙ্গীতশিল্পী জন লেজেন্ড।

এদিকে নিউ ইয়র্কে চূড়ান্ত ভোটে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৩৬ হাজার সদস্য। অনেককেই নিজ উদ্যোগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তে দেখা গেছে। নির্বাচনকে ঘিরে সহিংসতা, লুটপাট রোধেই এই পদক্ষেপ। প্রচলিত নিয়ম অনুসারে নির্বাচনে যে প্রার্থী বেশি ভোট পান তিনিই ক্ষমতায় যান। তবে মার্কিন নির্বাচন পদ্ধতি প্রচলিত এ নিয়মের চেয়ে কিছুটা জটিল। এখানে জনগণের ভোট বেশি পেয়েও কেউ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত নাও হতে পারেন।

প্রেসিডেন্ট হওয়া বা না হওয়ার বিষয়টি নির্ভর করে তিনি কতগুলো ইলেকটোরাল ভোট পেয়েছেন তার ওপর। দিন শেষে যার ঝুলিতে ২৭০ ইলেকটোরাল ভোট থাকবে, শেষ হাসি হাসবেন তিনিই। বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন এ নির্বাচনের মূল দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল ভোটের মধ্যে অন্তত ২৭০টি নিশ্চিত করতে হবে। মোট ভোটার প্রায় ২৪ কোটি। তারমধ্যে ১৯ কোটির মত ভোটার এবার নিবন্ধন করেছেন। আগাম ভোট দিয়ে ফেলেছেন ৯ কোটির বেশি ভোটার।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থীরা ভোটারদের কাছ থেকে যে ভোট পান তাকে বলা হয় পপুলার ভোট। আর ইলেকটোরাল কলেজের ভোটকে বলা হয় ইলেকটোরাল ভোট। কোনো অঙ্গরাজ্যে কতজন ইলেকটর থাকবেন তা সেখানকার মোট জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। একটি রাজ্যে যে প্রার্থী সবচেয়ে বেশি পপুলার ভোট পান তিনি ওই রাজ্যের সবগুলো ইলেকটোরাল ভোটও পেয়ে যান। এ নিয়মকে বলে উইনারস টেইক অল।

এ কারণেই পেনসিলভানিয়া, ফ্লোরিডা, নর্থ ক্যালোলিনা ও অ্যারিজোনার মত অঙ্গরাজ্যগুলো জয়-পরাজয় নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠে। ভোটের আগে সবশেষ জনমত জরিপে বাইডেনের চেয়ে পিছিয়ে আছেন ট্রাম্প। তবে ব্যাটলগ্রাউন্ড হিসেবে বিবেচিত ১৩টি রাজ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর ব্যবধান অল্প। যুক্তরাষ্ট্রের করোনাভাইরাস আক্রান্ত ভোটাররা এবং যারা স্বেচ্ছা-আইসোলেশনে আছেন তারাও ভোট দিতে পারবেন।

সিডিসি জানিয়েছে, আক্রান্তদের ক্ষেত্রেও সুরক্ষার নিয়ম মেনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে কোনো বাধা নেই। তবে কেন্দ্রে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে, অন্যান্যদের সঙ্গে ছয় ফুট দূরত্ব বজায় রাখতে হবে এবং ভোট দেওয়ার আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে অথবা হাত স্যানিটাইজ করতে হবে।