বিশ্বকাপ জেতা হয়নি, তাই সাকিবের সেরা মুহূর্তও আসেনি

বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার তিনি। তিন ফরম্যাটে সেরা অলরাউন্ডারের তকমা নেই ইতিহাসের কোনো ক্রিকেটারের। সাকিব সেখানে অনন্য। বাংলাদেশের অনেক জয়ে রয়েছে তার অবদান। রয়েছে নানা স্মরণীয় মুহূর্ত। তারপরও ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্তের প্রশ্নে সাকিবের উত্তর আকাশ ছোঁয়া। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জিতলে, সেই মুহূর্তটা হবে সাকিবের ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত।

এক বছরের নিষেধাজ্ঞা কাটানোর পর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে সংবাকর্মী ও ভক্ত-সমর্থকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সাকিব। সেখানকার এক প্রশ্নের জবাবে সাকিব বলেন, ‘সেরা মুহূর্ত এখনো আসেনি। সেরা মুহূর্ত হবে, বাংলাদেশের হয়ে কোনো বিশ্বকাপ জয়, সেটা ওয়ানডে হোক বা টি-টোয়েন্টি। এ পর্যন্ত যদি মনে করি, সেরাগুলোর একটি হলো অস্ট্রেলিয়ার সাথে টেস্ট ম্যাচ জয় ও এবারের বিশ্বকাপে আমার পারফরম্যান্স, ব্যক্তিগত দিক থেকে।’

দেশের হয়ে বিশ্বকাপ জয় করার স্বপ্ন পূরণের সুযোগ সামনেই পেয়ে যাবেন সাকিব। আগামী তিন বছরে বিশ্বকাপ হবে তিনটি। ২০২১ ও ২০২২ সালে পরপর দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, ২০২৩ সালে হবে ওয়ানডে বিশ্বকাপ। এই বিশ্ব আসরগুলোতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে নিজের ভাবনাও জানান তিনি।

বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে আমি জানি না আমরা কতটা এগিয়েছি। তবে এই সংস্করণের একটা সৌন্দর্য্য হলো, কেউ ফেবারিট নয়, যে কোনো দিন যে কোনো দল যে কাউকে হারাতে পারে। ওইটা আমাদের একটা ভরসা। যেহেতু আমরা এখন নিয়মিত টি-টোয়েন্টি খেলছি, ২০১৫-১৬ থেকে অনেক ভালো একটা দল আমরা, এখন বুঝতে পারি কিভাবে খেলা উচিত, সেটা আমাদের সাহায্য করবে আরেকটু ভালো খেলার জন্য। ২০২৩ বিশ্বকাপ এখনো বেশ দূরে। করোনাভাইরাসের কারণে সেভাবে খেলাও হয়নি। আমার মনে হয় না এটা নিয়ে কেউ ভাবতে পেরেছে। হয়ত এক-দেড় বছর আগে থেকে ওটা নিয়ে ভাবনা শুরু হবে।’

বৃহস্পতিবার রাতেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে ফেরার কথা সাকিব আল হাসানের। এরপর ক্রিকেটে ফেরার পালা। চলতি মাসের শেষের দিকে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলতে মুখিয়ে আছেন সাকিব। বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কা সফরে দ্বিতীয় টেস্ট দিয়ে ফেরার কথা ছিল সাকিবের। কিন্তু শ্রীলঙ্কা সফর স্থগিত হয়ে যাওয়ার পর অনুশীলন অসমাপ্ত রেখেই যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের কাছে ফিরে যান তিনি।

প্রশ্নোত্তর পর্বে সাকিব জানান, অনুশীলনের এই ঘাটতিটুকু পুষিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা তার আছে, বিকেএসপির অনুশীলন খুবই ভালো ছিল। ওই ট্রেনিং আমার খুব দরকার ছিল। যদিও আমার ইচ্ছে ছিল আরো ১৫-২০ দিন করার। যেহেতু শ্রীলঙ্কা সিরিজটি হয়নি, ওটা আর চালিয়ে যাওয়া হয়নি। চলে এসেছি যুক্তরাষ্ট্রে। আরো কিছুদিন করতে পারলে পরের ১-২ বছরের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুতি হয়ে যেত। তবে যেহেতু সামনে সময় আছে, সামনে একটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আছে, ওই ১৫-২০ দিনের ট্রেনিংয়ের যে গ্যাপটি ছিল, আমার ধারণা আমি পূরণ করতে পারব।’