অপমানে আত্মহত্যার পরও টাকার জন্য ফোন দিল সুদ ব্যবসায়ী

সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় সুদ ব্যবসায়ীর অপমানে আত্মহত্যা করেছেন এক বস্ত্র ব্যবসায়ী। শনিবার ভোরে বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউয়িনের নলী বাজারের বাসার পেছনে মেহগনি গাছে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। পলাশের পরিবার জানিয়েছে, ২০১৫ সালে বরগুনার পল্লী চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম সৌরভের কাছ থেকে প্রথমে তিনলাখ টাকা সুদ নেন। এরপর পর্যায়ক্রমে এভাবে তিনি ওই চিকিৎসকের কাছ থেকে সাড়ে সাত লাখ টাকা সুদ নেন।

পাঁচ বছরে সাত লাখ টাকার সুদ হিসেবে পরিশোধ করেছেন ১১ লাখ টাকা। কিন্ত এরপর আসলের জন্য চাপ দিতে থাকেন সুদ ব্যবসায়ী। নির্ধারিত সময়ে পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় মুঠোফোনে অকথ্য গালিগালাজ করেন। আর সেই অপমানে আত্মহত্যা করেন পলাশ। আত্মহত্যা করেও রেহাই মেলেনি। মৃত্যুর পরও টাকার জন্য ফোন দিয়েছেন সুদ ব্যবসায়ী।

পলাশের স্ত্রী রোখসানা বেগম বলেন, সৌরভের আসল সাত লাখের বিপরীতে আমার স্বামী ১১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে। এরপরও সে আসল টাকার জন্য আমার স্বামীকে গালিগালাজ করেছে। অপমানে আমার স্বামী আত্মহত্যা করেছে। আমি এই সুদ ব্যবাসীয় সৌরভের বিচার চাই। আমার ছোট ছোট দুটো বাচ্চা নিয়ে এখন আমি দিশেহারা। এ ঘটনার পর ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছে পল্লী চিকিৎসক জহিরুল ইসলাম সৌরভ। ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পলাশের মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় মৃত পলাশের জামার পকেট থেকে চিরকুট উদ্ধার করা হয়। এতে সুদের টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায়া অপমানে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন মর্মে লিখে রাখেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

বরগুনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) মো. শহীদুল ইসলাম মিলন জানান, এ ব্যাপারে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পরিবার অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ।