ট্রাম্পের মুসলিম নিষেধাজ্ঞা: প্রত্যাহার করবেন কি বাইডেন?

২০১৭ সালে দায়িত্ব গ্রহণের কিছুদিন পরই প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমন সিদ্ধান্তে নিন্দার ঝড় বয়ে যায় বিশ্বজুড়ে। এখন ক্ষমতার পালাবদলে দায়িত্বে এসেছেন জো বাইডেন। সম্প্রতি বাইডেন প্রতিশ্রুতি দেন, তিনি ক্ষমতায় এলে ট্রাম্প আমলে যে কটি মুসলিম দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তা প্রত্যাহার করে নেবেন।

হোয়াইট হাউসে তার প্রথম দিনই হবে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম নিষেধাজ্ঞার শেষ দিন বলেও জানান তিনি। এখন হোয়াইট হাউসের মসনদে বাইডেন। নিজের প্রতিশ্রুতি কতটুকু বাস্তাবায়ন করবেন এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৩টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সহজেই নির্বাহী আদেশে বাতিল করতে পারে বাইডেন প্রশাসন। যদি কনজারভেটিভ পার্টি এতে বাধা না দেয়।

গত অক্টোবরে বিদ্বেষমূলক অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলেন বাইডেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি আপনাদের অবদানকে সম্মান জানাতে এবং সমাজ থেকে ঘৃণার বিষয় উপড়ে ফেলতে আমি আপনাদের সঙ্গে কাজ করব। আমার প্রশাসন প্রতিটি স্তরেই মুসলিম আমেরিকানদের অবদান দেখতে চাইবে। হোয়াইট হাউসে প্রথম দিনই আমি ট্রাম্পের অসাংবিধানিক মুসলিম নিষেধাজ্ঞার পরিসমাপ্তি ঘটাব।

ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার কবলে ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ আরও কয়েকটি দেশ, যা দ্বারা মূলত বিদ্বেষমূলক আচারণ করা হয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নিষেজ্ঞার রোষনালে পড়তে হয়, নাইজেরিয়া, সুদান, মিয়ানমার ছাড়াও লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা এবং উত্তর কোরিয়া।

বাইডেনের ঐতিহাসিক বিজয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছে, ‘দ্য কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স-সিএআইআর। মুসলমানদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাইডেনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের তাগিদ দেয় সংস্থাটি।

সংস্থাটির জাতীয় নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ বলেন, প্রেসিডেন্ট তার কার্যদিবসের প্রথম দিনেই ট্রাম্পের দেয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করবে। এই ধরনের বৈষম্য সমাজের অস্থিরতা তৈরি করে বলেও মনে করেন তিনি। বাইডেনকে সহযোগিতায় এখানকার মুসলিম সম্প্রদায় চেষ্টা করতে প্রস্তুত বলেও জানান নিহাদ।

সূত্র: সময় নিউজ।