কোহলি-বাবর-উইলিয়ামসনদের চেয়ে এগিয়ে সাকিব আল হাসান

এবার টেস্টে ক্রিকেটে ফিরে দারুণ খেলছিলেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ৬৮ রানে আউট হওয়ার আগে সাকিবের খেলা ১৪৯ বলে ভুল ধরার সুযোগ ছিল খুব কমই এমনি ভক্তকুল তো আশায় করে ফেলেছিল ষষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরির। কিন্তু তাঁর ধৈর্যচ্যুতি ঘটায় বের করতে হলো ফিফটির হিসাব। টেস্টে ৭৯৭ দিন পর ফিফটির দেখা পেলেন সাকিব আল হাসান। ২০১৮ সালে ঢাকায় এই ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই বিপক্ষেই পেয়েছিলেন শেষ ফিফটি। সে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৮০ রানের পর আজ করলেন ৬৮ রান। তবে সাকিব আল হাসান রান করে যাচ্ছেন নিয়মিত, যা তার ক্যারিয়ারের সব থেকে উজ্জ্বল দিক।

হিসাব কষলে ২০১৯ সাল থেকে ন্যূনতম ১০০০ রান করেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের ব্যাটিং গড়ই সবচেয়ে বেশি। জুয়াড়ির প্রস্তাব গোপন করায় ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ হন সাকিব। এর মধ্যে এক বছর ছিল স্থগিত নিষেধাজ্ঞা। সে হিসাবে গত বছরের ২৯ অক্টোবর সাজার মেয়াদ শেষ হয় তাঁর। এর মধ্যেই ২০১৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ক্রিকেটের তিন সংস্করণ মিলিয়ে ২০ ম্যাচ খেলেছেন সাকিব। ব্যাটিং গড় ৬৭.৩৭।

এদিকে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (তিন সংস্করণ মিলিয়ে) এ সময় আর কোনো ব্যাটসম্যানই ব্যাটিং গড়ে সাকিবকে টপকে যেতে পারেননি। এমনকি ষাটের ঘরে আছেন শুধু আরেকজন—কেন উইলিয়ামসন। নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক এ সময় সাকিবের দ্বিগুণের বেশি ম্যাচ (৪৩) খেলে ৬০.৪২ গড়ে রান তুলেছেন ২৫৩৮। আর তারপর আছেন তৃতীয় অবস্থানে আছেন ৫৯.০৮ গড় নিয়ে বাবর আজম, তিনি করেছেন ৫৩ ম্যাচে ২৯৫৪ রান। শীর্ষ তিনে পরের দুজনের চেয়ে সাকিবের রানসংখ্যা অনেক কম (১০৭৮)। সেটি ম্যাচ কম খেলার জন্য।

তবে একটি জায়গায় আবার অলরাউন্ডার হিসেবে সাকিব এ সময় ছাপিয়ে গেছেন বেন স্টোকস ও রবীন্দ্র জাদেজাদের। এ সময় এক ইনিংসে ৫ উইকেটের দেখা পেয়েছেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার, স্টোকস ও জাদেজা ইনিংসে ৪ উইকেটের বেশি পাননি। শীর্ষ দশের তালিকায় ভারতের অধিনায়ক বিরাট কোহলি এ সময় রান তুলেছেন সবচেয়ে বেশি। ৬৬ ম্যাচে ৫৪.০৪ গড়ে ৩২৯৭ রান। সেঞ্চুরি ৭টি। এ সময় রোহিত শর্মার সেঞ্চুরিসংখ্যা সবচেয়ে বেশি (১১)। ৫৬ ম্যাচে ৫১.৪৬ গড়ে ২৮৮২ রান করেছেন রোহিত।

অন্যদিকে উইলিয়ামসন ও স্টিভেন স্মিথরাও এ সময় কোহলির সমান ৭টি করে সেঞ্চুরি পেয়েছেন। ৮টি করে সেঞ্চুরি ডেভিড ওয়ার্নার ও বাবর আজমের। সাকিব এ জায়গায় বেশ পিছিয়ে। এ সময় মাত্র ২টি সেঞ্চুরি পেয়েছেন সাকিব।