মীর কাসেমের মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড (ফাঁসি) বহাল রেখে আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর তার মৃত্যু পরোয়ানা (ডেথ ওয়ারেন্ট) জারি করে কারাগারে পাঠিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

সোমবার রাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে মীর কাশেমের মৃত্যু পরোয়ানা ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

সেখানে আসামিকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শোনানো হবে। এর মধ্য দিয়ে একাত্তরে আরেক নরঘাতক জামায়াতের কর্ম পরিষদের সদস্য মীর কাসেমের দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরু হলো।

এর আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ পূর্ণাঙ্গ রায় লেখা শেষে সোমবার দুপুরে তা স্বাক্ষর করেন। এরপর ২৪৪ পৃষ্ঠার রায়টি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

আপিল বিভাগের দেওয়া ২৪৪ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে প্রধান বিচারপতি ছাড়াও স্বাক্ষর করেছেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতদের মধ্যে এ নিয়ে মোট সাতজনের আপিলের নিষ্পত্তি শেষে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলো।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার মো. শহীদুল আলম ঝিনুক জানান, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল কার্যালয় থেকে বেলা সাড়ে ৩টার দিকে পূর্ণাঙ্গ রায়টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সব আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে বিচারপতি আনোয়ারুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বেঞ্চ সন্ধ্যা ৭টার দিকে মৃত্যু পরোয়ানায় সই করেন। অন্য দুই সদস্য হলেন— বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ও বিচারপতি মোহাম্মদ সোহরাওয়ার্দী।

তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য এরপরই আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করা হয়। এরপর মৃত্যু পরোয়ানা লালসালুতে মুড়িয়ে রাতে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, যেখানে একাত্তরের চট্টগ্রামের বদর বাহিনীর প্রধান মীর কাসেম আলী রয়েছেন।

ঝিনুক জানান, মৃত্যু পরোয়ানা তৈরির সব প্রক্রিয়া শেষ করে সন্ধ্যার পর ট্রাইব্যুনালের কর্মকর্তারা গাড়িতে করে তা পৌঁছে দেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা কর্তৃপক্ষের কাছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত জেল সুপার এই পরোয়ানা গ্রহণ করেন।

পরোয়ানা-সংক্রান্ত অনুলিপি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার।

এদিকে পরোয়ানা পাওয়ার পর থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। তবে রায় কার্যকর করতে আরও দুটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে রিভিউ আবেদন ও রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চাওয়া। পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রায় পুনর্বিবেচনার জন্য (রিভিউ) আবেদন করার কথা জানিয়েছে আসামি পক্ষ। সেক্ষেত্রে চলতি মাসের শেষ দিকে আপিল বিভাগে ওই রিভিউ আবেদন করা হলে আগামী মাসে রোজার ঈদের পর শুনানি হতে পারে।

প্রসঙ্গত, আগামী ১৯ জুন থেকে সুপ্রিম কোর্টে রমজানের ছুটি শুরু হয়ে আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত চলবে।

মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামে আলবদরের কমান্ডার ছিলেন মীর কাসেম। সে সময় হত্যা, লুণ্ঠন, অপহরণ ও নির্যাতনের দায়ে ২০১৪ সালের নভেম্বরে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। পরে এই রায়ের বিরুদ্ধে তিনি আপিল করেন।

শুনানি শেষে মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে গত ৮ মার্চ আপিলের সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ। আর সোমবার আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। – সমকাল